Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাঙ্গুলিডাঙাতে আন্ডারপাস করার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ, ফিরল রেলের ইঞ্জিনিয়াররা

কাটোয়ার গাঙ্গুলিডাঙাতে রেলের আন্ডারপাস করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুধবার বিক্ষোভ দেখালেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা।

গাঙ্গুলিডাঙাতে আন্ডারপাস করার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ, ফিরল রেলের ইঞ্জিনিয়াররা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার গাঙ্গুলিডাঙাতে রেলের আন্ডারপাস করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুধবার বিক্ষোভ দেখালেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। রেলের দুই ইঞ্জিনিয়ারকে ঘিরে কয়েক শ’ বাসিন্দা তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, আন্ডারপাসে জল জমে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। বিকল্প কোনও রাস্তা নেই তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের। রেল গেট দিয়েই বাসিন্দারা যাতায়াত করতে চান। বিক্ষোভের জেরে রেলের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাটোয়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় এলাকায় ব্যপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। 

Advertisement

রেলের কাটোয়া-বর্ধমান শাখার মধ্যেই গাঙ্গুলিডাঙা গ্রামটি। ওই গ্রামের ভিতর দিয়েই কদমপুকুর ও শ্রীখণ্ড গ্রামের প্রায় দশ হাজার বাসিন্দা যাতায়াত করেন। অতীতে কাটোয়া-বর্ধমান শাখাটি ন্যারোগেজ থাকাকালীন রেললাইন টপকেই গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হতো। ব্রডগেজ হওয়ার সময়ে গাঙ্গুলিডাঙা গ্রামের পাশ দিয়ে লোহার রেলিং দিয়ে দু’ দিক ঘিরে দেওয়া হয়। যার ফলে গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। গ্রামের পাশে একটি মাত্র রেল গেট রয়েছে। বাসিন্দারা সেখান দিয়েই যাতায়াত করছেন এখন। রেল এখন ওই ফটক তুলে দিয়ে সেখানে আন্ডারপাস করতে চাইছে। বাসিন্দাদের দাবি, এলাকাটি নিচু হওয়ায় প্রায়শই জল জমে থাকে। আন্ডারপাস হলে সেখানেও কোমর পর্যন্ত জল জমে থাকবে। তাহলে গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুল যাবে কীভাবে। তাই আমরা চাই না এখানে আন্ডারপাস হোক। আমরা রেল গেট দিয়েই যাতায়াত করব। রেল কথা না শুনলে আমরা আরও বড় আন্দোলনের পথে নামব। গ্রামের বাসিন্দারা কাটোয়ার মহকুমা শাসককেও লিখিত ভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। 
কাটোয়ার এসডিও অনির্বান বসু বলেন, আমি শীঘ্রই গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলব। 
গ্রামবাসী সেন্টু রহমান শেখ, আফরিন সুলতানা বলেন, কাটোয়া-বর্ধমান রোডের উপরেই প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। কিন্তু গ্রাম রয়েছে রেল লাইনের অপর পাড়ে। তাই গ্রামের ছোটো ছেলেমেয়েদের ওই গেট দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। আন্ডারপাস হলে সেখানে যা জল জমে যাবে, তাতে ছোটো ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়বে। লালমোহন শেখ, আলম শেখ বলেন, কাটোয়া-বর্ধমান শাখার কাটোয়া, বনকাপাশি, কৈচর এসব এলাকায় রেলের বেশ কয়েকটি আন্ডারপাস রয়েছে। সেখানে বছরভর জল জমে থাকে। এদিন রেলের কাটোয়া ডিভিশনের দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার যান জমি জরিপ করতে। কিন্তু বাসিন্দাদের আন্দোলনের চাপে তাঁরা কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়েই রেল ফটকে কাটোয়া থানার পুলিশ যায়। পঞ্চায়েতের প্রধান সহ অন্যান্যরাও যান। তাঁরা রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর ঠিক হয়, রেল গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান খুঁজবে। রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত রেল গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিকল্প হিসেবে আন্ডারপাস করা হবে। যদিও এদিন রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, আমরা অবশ্যই গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলব। তবে রেলবোর্ডের অর্ডার আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে। শ্রীখণ্ড পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদীপকুমার মণ্ডল বলেন, আমরাও রেল ও গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ