Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্যাপক ভক্ত সমাগমের আশা নবদ্বীপে, দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাটগুলিতে কড়া নজরদারি

আজ, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ ধামের সঙ্গে শিবের একটা পৌরাণিক সম্পর্ক রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এবারও ব্যাপক ভক্ত সমাগম হবে বলে মনে করছে পুলিস প্রশাসন।

ব্যাপক ভক্ত সমাগমের আশা নবদ্বীপে, দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাটগুলিতে কড়া নজরদারি
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ ধামের সঙ্গে শিবের একটা পৌরাণিক সম্পর্ক রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এবারও ব্যাপক ভক্ত সমাগম হবে বলে মনে করছে পুলিস প্রশাসন। রবিবার থেকেই নবদ্বীপের ভাগীরথী থেকে জল নিতে ভিড় করেছেন শিবভক্তরা। নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটে কাতারে কাতারে পুণ্যার্থী এসেছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে তৎপর নবদ্বীপ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী ফেরিঘাট। সেটি বড়ালঘাট ফেরিঘাট সংলগ্ন নয়নতারা ঘাটে। স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে নৌকাপথে এই অস্থায়ী ফেরিঘাটে নেমে নবদ্বীপের বিভিন্ন ঘাটে স্নান করতে আসেন শিবভক্তরা। প্রতিটি ঘাটেই পুরসভা থেকে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্তের শিবভক্তরা স্বরূপগঞ্জ থেকে নৌকা করে নবদ্বীপের নয়নতারা ঘাটে আসেন। তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন ঘাটে স্নান সেরে আবার বড়ালঘাট ফেরিঘাট থেকে কেউ নৌকা বা কেউ লঞ্চ পার হয়ে স্বরূপগঞ্জ ফিরে যান। সেখান থেকেই তাঁরা হাঁটাপথে শিবমন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।  রবিবার নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবার কেউ সংলগ্ন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী, দাঁইহাট, মাধাইপুর সহ আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ এসেছিলেন নবদ্বীপের বড়ালঘাট, রানিরঘাট, পোড়াঘাট, শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাট সহ সব ঘাটগুলিতে। সকাল থেকেই মেলার চেহারা নিয়েছিল নবদ্বীপের বড়ালঘাট। শিব অনুরাগীরা ফুল মালা, ত্রিশূল, ডমরু, বড় বড় বাঁক সাজিয়ে তাতে কেউ পিতলের কলসি, কেউ মাটির বা প্লাস্টিকের জারে গঙ্গার জল নিয়ে শিবমন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। বাঁক কাঁধে হেঁটে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কেউ নদীয়ার শিবনিবাসের শিবমন্দির, কেউবা প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বুড়োরাজের মন্দির, কেউবা রেলপথে জল নিয়ে হুগলির তারকেশ্বর শিবমন্দিরে পুজো দিতে রওনা হলেন। 

Advertisement

নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার পাবাখালি রায়পাড়ার থেকে স্নান করতে এসেছিলেন উৎসব সিংহ, সৌভিক রায়, নিরুপম রায়,রাজদীপ রায়, সুরজ সাধুখাঁ, শুকদেব সাধুখারা। ওরা বলেন, সবাই প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে যাব। মাঝপথে বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করে মাঝ রাতে পৌঁছে যাব। ভোরবেলা বাবার মাথায় জল ঢালব। নদীয়ার  ভীমপুর আসাননগর থেকে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন শুভঙ্কর অধিকারী। তিনি বলেন,  এখান থেকে স্নান করে জল নিয়ে শিবনিবাস যাব। গঙ্গার জল খুবই বেড়েছে। মাঝ পথে একটু বিশ্রাম নিয়ে সোমবার ভোরে ঠিক মন্দিরে পৌঁছে যাব। নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা পাত্র ও ষষ্ঠ শ্রেণির রকি জানায়, ঠিক শিবঠাকুরের নাম নিতে নিতে চলে  যাব। রবিবার সকালে প্রতিটি ঘাটে ছিল কড়া পুলিসি নিরাপত্তা। ভিড় সামাল দিতে স্নানের ঘাটগুলিতে ড্রপ গেট তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়াও নদীপথে তিনটি স্পিড বোট নিয়ে নজরদারি করতে দেখা যায় ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যদের। ফেরিঘাট  সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জের মধ্যে ছয়টি নৌকা ও চারটি লঞ্চ চলাচল করছে। নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জ ঘাটে কয়েকটি অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টারও খোলা হয়েছে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার উপলক্ষ্যে নবদ্বীপে রবিবার প্রায় লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়েছে। নবদ্বীপ, স্বরূপগঞ্জ, তিওরখালি, নবদ্বীপঘাট বাসস্ট্যান্ড বিভিন্ন জায়গায় পাঁচটি পুলিস সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। যেখান থেকে মানুষ পানীয় জল সহ সমস্ত রকম সহায়তা পাচ্ছেন। পাঁচটি থানার ওসি ,মহিলা পুলিস কর্মী সহ ৪০০ পুলিস কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে নবদ্বীপের প্রাচীন সব শিব মন্দির বুড়োশিব মন্দির, যোগনাথ শিব, বাণেশ্বর, বালকনাথ সহ শিবমন্দিরগুলিতে ভিড় করবেন অনেকেই। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ