সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ ধামের সঙ্গে শিবের একটা পৌরাণিক সম্পর্ক রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এবারও ব্যাপক ভক্ত সমাগম হবে বলে মনে করছে পুলিস প্রশাসন। রবিবার থেকেই নবদ্বীপের ভাগীরথী থেকে জল নিতে ভিড় করেছেন শিবভক্তরা। নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটে কাতারে কাতারে পুণ্যার্থী এসেছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে তৎপর নবদ্বীপ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী ফেরিঘাট। সেটি বড়ালঘাট ফেরিঘাট সংলগ্ন নয়নতারা ঘাটে। স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে নৌকাপথে এই অস্থায়ী ফেরিঘাটে নেমে নবদ্বীপের বিভিন্ন ঘাটে স্নান করতে আসেন শিবভক্তরা। প্রতিটি ঘাটেই পুরসভা থেকে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্তের শিবভক্তরা স্বরূপগঞ্জ থেকে নৌকা করে নবদ্বীপের নয়নতারা ঘাটে আসেন। তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন ঘাটে স্নান সেরে আবার বড়ালঘাট ফেরিঘাট থেকে কেউ নৌকা বা কেউ লঞ্চ পার হয়ে স্বরূপগঞ্জ ফিরে যান। সেখান থেকেই তাঁরা হাঁটাপথে শিবমন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রবিবার নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবার কেউ সংলগ্ন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী, দাঁইহাট, মাধাইপুর সহ আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ এসেছিলেন নবদ্বীপের বড়ালঘাট, রানিরঘাট, পোড়াঘাট, শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাট সহ সব ঘাটগুলিতে। সকাল থেকেই মেলার চেহারা নিয়েছিল নবদ্বীপের বড়ালঘাট। শিব অনুরাগীরা ফুল মালা, ত্রিশূল, ডমরু, বড় বড় বাঁক সাজিয়ে তাতে কেউ পিতলের কলসি, কেউ মাটির বা প্লাস্টিকের জারে গঙ্গার জল নিয়ে শিবমন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। বাঁক কাঁধে হেঁটে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কেউ নদীয়ার শিবনিবাসের শিবমন্দির, কেউবা প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বুড়োরাজের মন্দির, কেউবা রেলপথে জল নিয়ে হুগলির তারকেশ্বর শিবমন্দিরে পুজো দিতে রওনা হলেন।



