নিজস্ব প্রতিনিধি, চাপড়া: চাপড়ার শ্রীনগর মোড়ে তখন সবেমাত্র বক্তব্য শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কে রোড শো এগতে থাকে। এমনই পরিস্থিতিতে ভিড়ের মধ্যে আচমকা এক বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নজরে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে ভাষণ থামিয়ে দেন অভিষেক। তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে নিজের জলের বোতল এগিয়ে দেন। ওই বৃদ্ধাকে ভিড় থেকে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে জায়গা করে দিতে বলেন। ভিড়ের মধ্যে বসানোর উপযুক্ত জায়গা না থাকায় ওই বৃদ্ধার চোখে-মুখে জল ছিটিয়ে তাঁকে নিজের গাড়ির ভিতরেই বসানোর নির্দেশ দেন অভিষেক। পাশাপাশি দ্রুত এক চিকিৎসককেও ডেকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
রোড-শো চলাকালীন দলের সাধারণ সম্পাদকের এই তৎপরতা দেখে স্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে চতুর্দিক। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিড় ও গরমের কারণেই ওই মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বাস্তবেই রোড-শো’তে কর্মী-সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষের ভিড় ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। যা দেখে আপ্লুত অভিষেক বলেন, ‘চাপড়ায় আজ রোড-শো’তে যা লোক হয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ লোক দিল্লিতে গেলে বিজেপি বানের জলে ভেসে যাবে। বাংলায় শক্তি দেখতে পাবে।’ ইনসাফ ক্লাবের মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামার পর, গাড়ি করে রোড শো করেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। দুপুর গড়াতেই শ্রীনগর চত্বরে বিভিন্ন দিকে ছিল শুধু কালো মাথার ভিড়। করিমপুর, তেহট্ট, পলাশীপাড়া, ধুবুলিয়া সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কর্মী সমর্থকের ভিড়ে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়ক তখন কার্যত অবরুদ্ধ। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক এদিনের রোড শোতে পা মেলান। তারপর শ্রীনগর মোড়ে এসে ভাষণ দেন। তৃণমূলের দাবি, পঞ্চাশ হাজার লোক সমাগম হয়েছিল। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করেও ভিড় সামাল দিতে বেগ পেতে হয়। কোনওরকমে পুলিশ ভিড় সামাল দেয়। ভিড় দেখে অভিষেক ভাষণের শুরুতেই বলেন, ‘যতদূর চোখ যাচ্ছে খালি মাথার ভিড়। যারা তৃণমূলকে আক্রমণ করে, তৃণমূলের ক্ষমতা কী তারা নদীয়ার মাটিয়ে এসে দেখে যাক। যারা আমাদের বঞ্চিত, শোষিত করেছে তারা চাপড়ার মাটিতে এসে দেখে যাক। জনসুনামি, জনজোয়ার কাকে বলে।’ রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে দিল্লির বিজেপির সরকারের কাছে কাজের খতিয়ান চান অভিষেক। ১০০দিনের কাজ, বাংলার বাড়ি সহ বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেডের সভায় এসে বাংলাকে লাড্ডু দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাংলাকে রসগোল্লা দিয়েছেন।’ অভিষেক বলেন, ‘আগামী ১৫দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার ২০লক্ষ মানুষের ছাদের ব্যবস্থা করে দেবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’