সংবাদদাতা, কাটোয়া: টাকার অভাবে কলেজে পড়াশোনা করতে পারেননি মঙ্গলকোটের বাসিন্দা মিতা মাঝি। তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে। বাবা মাছ বিক্রেতা। মেয়ের বিয়েতে সাহায্যের জন্য তিনি ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পে আবেদন জানিয়েছিলেন। সরকারি সাহায্য তো মিলেছেই, পাশাপাশি মিতাকে নিজের হাতে বেনারসি শাড়ি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বরের ধুতি-পাঞ্জাবিও উপহার দেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পেয়ে আপ্লুত মঙ্গলকোটের দুঃস্থ পরিবারের যুবতী মিতা মাঝি।
বর্ধমানের প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন উপহার পাবেন, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি মিতা ও তাঁর পরিবার। বাবা বাপন মাঝি গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাছ বিক্রি করেন। মা কৃষ্ণাদেবী গৃহবধূ। মিতার দুই ভাই রয়েছে। মঙ্গলকোট ব্লকের ঝিলু-২ পঞ্চায়েতের ঠেঙাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিতা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কলেজে কলা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের জন্য তাঁর কলেজ যাওয়ায় ছেদ পড়ে। বাধ্য হয়ে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে বাড়িতেই থাকেন। এদিকে, বাবা বিয়েও ঠিক করে ফেলেন। কিন্তু বিয়ের বিপুল খরচ জোগাতে গিয়ে গরিব মাছ বিক্রেতা বাবা সমস্যায় পড়েন। তাই বাপনবাবু একমাস আগে ব্লকে রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন জানান। আর পাঁচজনের মতোই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকে যাওয়ার কথা। কিন্তু ব্লকের সরকারি অফিসাররা দু’দিন আগে জানিয়ে দেন, মেয়েকে নিয়ে বর্ধমানে প্রশাসনিক সভায় যেতে হবে। সেখানে গিয়ে যা ঘটল, তাতে রীতিমতো হতবাক বনে যান বছর কুড়ির মিতা।
ওইদিন তাঁকে মঞ্চে তুলে দেওয়া হয়। মাটির ভাঙা বাড়িতে থাকা গ্রামের মেয়ে মিতার তখন হাত-পায়ে কাঁপুনি ধরার অবস্থা। কারণ মঞ্চে রয়েছেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী! আরও কত বড়বড় সরকারি অফিসাররা রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী একটি লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ি মিতার কাঁধে চাপিয়ে দেন। তাঁকে আশীর্বাদ করেন। আনন্দে চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি মিতা। তাঁর কথায়, আমি ভেবেছিলাম বেনারসিটাও হয়তো বাবা ধার করে কিনে আনবেন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া উপহারস্বরূপ বেনারসি পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসব, এটা স্বপ্নেও কোনওদিন ভাবতে পারিনি। বিয়ের পর শাড়িটা যত্নে রাখব। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সব্বাইকে দেখাব।
মিতার মা কৃষ্ণাদেবী চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, আমাদের বাড়ি বলতে এই দু’টি মাটির ঘর। সরকারি সাহায্য আমাদের অনেক কাজে লাগবে। তবে, দিদি আমাদের মতো সামান্য পরিবারের মেয়েকে এমন উপহার তুলে দেবেন, তা কল্পনাও করতে পারিনি। -নিজস্ব চিত্র