সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শিলিগুড়ি থেকে আবারও গাঁজা পাচার রামপুরহাটে। এবার পিকআপ ভ্যানে ফলের ট্রের আড়ালে অভিনব কায়দায় পাচার চলছিল। তবে, শেষরক্ষা হল না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে দু’ঘণ্টা ধরে ওত পেতে বসে থেকে রামপুরহাট থানার পুলিস পিকআপ ভ্যানটিকে আটক করে। উদ্ধার হয় প্রায় ২৮কিলোগ্রাম গাঁজা। গাড়িতে থাকা দুই আন্তঃজেলা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করে ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে অপেক্ষারত স্থানীয় এক মাদক ডিলারকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এদিন ধৃতদের সিউড়ি স্পেশ্যাল আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে, শিলিগুড়ি থেকে পিকআপ ভ্যানে প্রচুর পরিমাণে গাঁজা নিয়ে আসা হচ্ছে। সেইমতো রামপুরহাট এসডিপিও এবং আইসির নেতৃত্বে পুলিসের একটি দল ভোররাত থেকে রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের ভোল্লা ক্যানেল মোডের কাছে ওঁত পেতে বসে থাকে। জাতীয় সড়কে পুলিসের টহলদারি ভ্যানও সক্রিয় ছিল। ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ পিকআপ ভ্যানটি আসতেই পুলিস সেটিকে থামায়। এরপরই তল্লাশি শুরু করে। দেখা যায়, পিকআপ ভ্যানে থরে থরে ফলের খালি ট্রে সাজানো রয়েছে। একেবারে নীচের দিকে দু’টি পৃথক ট্রেতে লাল পলিথিনে মোড়া অবস্থায় গাঁজাগুলি রাখা ছিল। এরপরই পুলিস গাড়িতে থাকা সঞ্জয় হালদার ও টিঙ্কুকুমার সিংকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমজনের বাড়ি মুর্শিদাবাদের লালবাগে। অপরজন বিহারের ভোজপুরের বাসিন্দা। ঘটনাস্থলেই পুলিস তাদের প্রাথমিক জেরা করে। ধৃতরা হাত দেখিয়ে জানায়, কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় এক ডিলারের হাতে এই গাঁজা তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সেইমতো পুলিস মীর মোশারফ ওরফে মিলন শেখ নামে ওই ডিলারকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি রামপুরহাট শহরের ১৭নম্বর ওয়ার্ডের ভাগাড়পাড়ায়।
পুলিস জানিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে গাঁজা এনে এখানে পাচার করা হচ্ছিল। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের এই জেলায় গাঁজা পাচারের একটা করিডর তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে পুলিস।
উল্লেখ্য, গত ১৪মে শিলিগুড়ি থেকে সিউড়িগামী সরকারি দূরপাল্লার বাসে পাপোসের মধ্যে লুকিয়ে অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচার চলছিল। তল্লাশি চালিয়ে ৫০কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তার মধ্যে ধৃত সৌরভ দাসের বাড়ি নকশালবাড়িতে। অপর ধৃত ইসমাইল মহম্মদের বাড়ি রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে। এই টিমের সঙ্গে এদিনের ধৃতদের কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা জানতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।