Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টানা বৃষ্টিতে গাঁদাগাছের গোড়ায় পচন, লালবাগ পুজোর আগে মাথায় হাত ফুলচাষিদের

পুজোর আগে নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে লালবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় গাঁদাফুলের জমিতে জল জমে রয়েছে

টানা বৃষ্টিতে গাঁদাগাছের গোড়ায় পচন, লালবাগ পুজোর আগে মাথায় হাত ফুলচাষিদের
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: পুজোর আগে নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে লালবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় গাঁদাফুলের জমিতে জল জমে রয়েছে। ফলে গাছের গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে। গাছ শুকিয়ে ফুল, কুঁড়ি কালো হতে শুরু করেছে। নিচু এলাকার জমিতে ফুলগাছ প্রায় জলে ডুবে রয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যে জল না নামলে কয়েক বিঘা জমির ফুলগাছ পচে নষ্ট হয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই পুজোর আগে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে লালবাগ মহকুমার ফুল চাষিদের।

Advertisement

জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী বলেন, নিচু এলাকার জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকার কারণে গাছের গোড়া পচার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উঁচু জমিতে এখনই ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
লালবাগ মহকুমার রণসাগর, কমলবাগ, নশিপুর, সন্ন্যাসীতলা, কুর্মিটোলা, নারকেলতলা, হরিগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় ধান, পাট ও সব্জির পাশাপাশি সারা বছর ধরেই গাঁদাফুল চাষ হয়। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাপক পরিমাণে গাঁদাফুল প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি, কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের বেশকিছু চাষি গাঁদা চাষকেই জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফুলচাষিরা বলেন, প্রথমদিকে হাতেগোনা কয়েকজন কৃষক ধান, সব্জির পাশাপাশি অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুলচাষ শুরু করেন। ভালো লাভ হওয়ায় পরবর্তীতে আরও অনেকেই ফুলচাষ শুরু করেন। প্রথমদিকে কয়েক বছর ফলন ভালো হয়। গত দু’বছর ধরে গ্রীষ্মের দাবদাহ এবং বর্ষার ভারী বৃষ্টিতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, এমনটাই দাবি ফুলচাষিদের। কমলবাগের ফুলচাষি পরেশ দাস বলেন, দু’বছর ধরে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টে চাষের খরচ তুলতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে রয়েছে। গাছ পচে যাচ্ছে। পুজোর আগে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম। নশিপুরের ফুলচাষি রবি ভুঁইমালি বলেন, আগে সব্জিচাষ করতাম। বছর পাঁচেক ধরে সব্জির পরিবর্তে গাঁদাচাষ করছি। পুজোর মরশুমে ভালো মুনাফার আশায় দুই বিঘা জমিতে ফুলচাষ করেছি। গাছ বড় হয়ে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। আবার বৃষ্টি হলে চরম ক্ষতি হবে। হরিগঞ্জের ফুলচাষি রাকেশ মণ্ডল বলেন, দুর্গাপুজো থেকে পরবর্তী কয়েক মাস ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। ওই সময়ে চাহিদা থাকায় ভালো রোজগার হয়। দু’দিন ধরে জমিতে জল জমে রয়েছে। আরও কয়েকদিন জমে থাকলে গাছগুলিকে আর বাঁচানো যাবে না। এদিকে নতুন করে চারা লাগিয়ে পুজোর বাজার ধরা যাবে না।  লালবাগের রামসাগরে গাঁদা গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ