প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: এশিয়ার বৃহত্তম শাল জঙ্গল সারান্ডা এখন ঝাড়গ্রাম পুলিসের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম এবং সরাইকেলা জেলাজুড়ে এই অরণ্য বিস্তৃত। যা মাওবাদীদের বিচরণ ক্ষেত্র। গত সপ্তাহে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার কমলাপুর থানার পুলিস বেলপাহাড়ীর জামিরডিহা গ্রামের বাসিন্দা ফেরার মাওবাদী নেত্রী জবা, বিদরি গ্রামের মঙ্গল সিং সর্দার ও গোপীবল্লভপুর থানার পাথরনাশা গ্রামের মালতির বাড়িতে এসে আদালতের নোটিস সাঁটিয়ে গিয়েছে। জেলার রাজনৈতিক মহলে যা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়, চিন্তিত জেলার পুলিস মহলও। কারণ ঝাড়গ্রাম জেলা ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ও জঙ্গল অধ্যুষিত। জঙ্গল দিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে ঝাড়গ্রামে এসে গা ঢাকা দেওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্টই রয়েছে। বিশেষত এই জেলা যখন এক সময়ে মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল। যদিও কেন্দ্রের রিপোর্টে এই জেলা বর্তমানে মাওবাদী মুক্ত। তবে সম্প্রতি ছত্তিশগড়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে দুই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মৃত্যু এবং পরবর্তীতে মাওবাদীদের প্রেশার মাইন বিস্ফোরণে এক পুলিস কর্তার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই আবহে সারান্ডার জঙ্গল থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মাওবাদীরা ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে ঢুকে পড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। যা জেলার পুলিস কর্তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলার জঙ্গল লাগোয়া সীমানা এলাকায় চলছে লাগাতার নজরদারি। ঝাড়গ্রামের এসপি অরিজিৎ সিনহা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের খবর অনুযায়ী ঝাড়গ্রামে মাওবাদী গতিবিধির কোনও খবর নেই। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার সাথে এই জেলার সীমানা রয়েছে। ওই জেলাও মাওবাদী মুক্ত হিসেবে ঘোষিত। পশ্চিম সিংভূম জেলার সঙ্গে এই জেলা সীমানা নেই। তবে ওই জেলার সারান্ডার জঙ্গলে মাওবাদীদের গতিবিধি থাকতে পারে। নজরদারি আগের মতোই চলছে। ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জঙ্গল রয়েছে। গভীর জঙ্গল পথ দিয়ে অনায়াসে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া যায়।



