নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গল থেকে সটান লালবাজারে! তাও আবার একে-৪৭ এবং ইনসাস রাইফেল সহ। ঝাড়খণ্ড ও লাগোয়া এ রাজ্যের জঙ্গলমহলে বিচরণ করে বেড়ানো শেষ মাওবাদী দম্পতি শালবনীর মঙ্গল মাহাত এবং গোপীবল্লভপুরের মালতী মুর্মু শুক্রবার আত্মসমর্পণ করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দার কাছে। মাওবাদীদের রাজ্য সম্পাদক আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডলের দেহরক্ষী ছিলেন এই দম্পতি। আকাশ গ্রেপ্তারের পর থেকেই একদা কিষেনজি ঘনিষ্ঠ এই মাও দম্পতির আত্মসমর্পণ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। ঝাড়খণ্ড পুলিশ মঙ্গলের মাথার দাম ধার্য করেছিল পাঁচ লক্ষ এবং মালতীর দু’লক্ষ টাকা।
সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন কলকাতার সিপি জানান, এই মাওবাদী দম্পতি কিষেনজির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁদের মাথার দাম ছিল ৭ লাখ টাকা।’ আদতে এই রাজ্যের জঙ্গলমহলের বাসিন্দা হলেও শেষ দিকে ঝাড়খণ্ডে বেশি সক্রিয় ছিলেন। মূলত, জঙ্গলমহলে লালগড় আন্দোলনের সময় প্রথমে জনসাধারণের কমিটি হাত ধরে মাওবাদী সংগঠনে নাম লেখান তাঁরা। পরে কিষেনজির মৃত্যুর পর ঝাড়খণ্ডে চলে যান। কিন্তু সেখানে মাওবাদী দলের পলিটব্যুরোর শীর্ষনেতা প্রশান্ত বোস ওরফে কিষানদা গ্রেপ্তারের পর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ফের এরাজ্যে ফিরে আসেন তাঁরা। ঝাড়খণ্ডে এই দম্পতির নামে ৬-৭ টি মামলা রয়েছে। এদিন সাংবাদিক সম্মলনে মঙ্গল দাবি করেন, ‘সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চাই। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে আত্মসপর্মণ করছি।’
তবে সাম্প্রতিক কালে, আর্থিক সংকটে থাকা মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আকাশকে পূর্ব মেদিনীপুরের পাটাশপুরে শ্বশুড়বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে পুলিশের বড় সাফল্য। কলকাতা পুলিশের এসটিএফের এক সূত্র জানাচ্ছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই এই মাওবাদী দম্পতি কলকাতায় একটি সেফ হাউসে নজরদারির মধ্যে ছিলেন।



