সংবাদদাতা, কান্দি: অতিবর্ষণ ও ব্যারাজের ছাড়া জলে কান্দি মহকুমার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সোমবার রাতেই বড়ঞা ও ভরতপুর ১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে ঢুকেছে বন্যার জল। কুয়ে নদীর বাঁধে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। ত্রাণ বিলি নিয়েও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কান্দি মহকুমা শাসক উৎকর্ষ সিং জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন মাফিক ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম তৈরি রাখা হয়েছে।
সোমবার বিকেল থেকেই ভরতপুর ১ ব্লকের কোল্লা গ্রামের ভিতরে নৌকা চলতে শুরু করেছে। গ্রামের প্রায় ২০০ বাড়িতে বন্যার জল ঢুকেছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অধিকাংশ বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন বাড়ির ছাদে। ছাদেই ত্রিপল খাটিয়ে রান্নার আয়োজন করা হচ্ছে। গ্রামের আজিম শেখ বলেন, গোটা গ্রাম বন্যায় ভেসে গিয়েছে। বাড়ি থেকে বেরলেই রাস্তায় ১০ ফুট গভীর জল। নৌকা কিংবা গুড়ের কড়াই ছাড়া বেরনোর উপায় নেই। গ্রামে ত্রাণ শিবির খোলা হলেও জল ভেঙে কেউ যেতে পারছেন না।
এই ব্লকের চাঁদপুর গ্রামের ভিতরেও জল ঢুকেছে। গ্রামের রাস্তার কয়েক জায়গায় কোমর সমান জল। এলাকার সুখদানপুর গত পাঁচদিন ধরে জলবন্দি হয়ে রয়েছে। গড্ডা, সিংহারি, শ্যামপুর গ্রামগুলির নিচু এলাকা জলমগ্ন। বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। কান্দি-সালার রাজ্য সড়কের আঙারপুরের কাছে সোমবার রাতে জল উঠলেও, এদিন ভোর থেকে ফের নামতে শুরু করেছে। তবে ওই রাস্তার সালার থানার নবপল্লি গ্রামের কাছে রাস্তার ধারে লেগেছে বন্যার জল।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সুন্দিপুর ও নতুন ছত্তরপুর গ্রামের কাছে কুয়ে নদীর একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। ফলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। বাসিন্দা সিন্ধু মণ্ডল বলেন, বাঁধের আর কিছুটা উপরে জল উঠলেই ধস নামা জায়গাগুলো দিয়ে জল বেরতে শুরু করবে। এই সময়ে মেরামত না হলে বাঁধ ভাঙার সম্ভবনা রয়েছে। ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে সোমবার রাতেই বড়ঞা ব্লকের সোনাভারুই গ্রামে জল ঢুকেছে। জাওহাড়ি, আনন্দনগর, তারাপুর ও বৈদ্যনাথপুর গ্রামের নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত। জাওহাড়ি গ্রামের রাস্তা বন্যার জলে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। বাসিন্দারা সামগ্রী নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। সোনাভারুই গ্রামের নবকুমার মণ্ডল বলেন, গ্রামের সমস্ত রাস্তায় এক কোমর জল। অনেক বাড়িতে রান্না করার জায়গাও নেই।
এদিকে ভরতপুর ১ ব্লক এলাকার বন্যা প্লাবিত গ্রামগুলিতে ত্রাণ বিলি করা হলেও বড়ঞায় এখনও পর্যন্ত ত্রাণের দেখা নেই বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে এদিনও খড়গ্রামের বন্যা পরিস্থিতি একই রয়েছে। নতুন করে কোনও গ্রাম প্লাবিত না হলেও প্লাবিত গ্রামগুলিতে দুর্ভোগ বেড়েছে বলে বাসিন্দারাদের সূত্রে জানা গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র