Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিতুড়িয়ায় সকাল থেকেই বহু গ্রাম বিদ্যুৎহীন, সাব স্টেশন ঘেরাও ভুক্তভোগীদের

ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার নিতুড়িয়া ব্লকের বাসিন্দারা গোবাগ সাব-স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি, সাব-স্টেশনের সমস্ত বৈদ্যুতিক মেন স্যুইচগুলি নামিয়ে দেওয়া হয়।

নিতুড়িয়ায় সকাল থেকেই বহু গ্রাম বিদ্যুৎহীন, সাব স্টেশন ঘেরাও ভুক্তভোগীদের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার নিতুড়িয়া ব্লকের বাসিন্দারা গোবাগ সাব-স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি, সাব-স্টেশনের সমস্ত বৈদ্যুতিক মেন স্যুইচগুলি নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে, ওই এলাকা সহ পাশের ব্লক সাঁতুড়ির একাধিক গ্রাম বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এদিন গোবাগ, রামকানালি, হরিডি, জনার্দণ্ডীর মতো একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। খবর পেয়ে নিতুড়িয়া থানার পুলিস ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক এবং নিতুড়িয়া ব্লকের বিডিও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আগামী ১৫দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভ উঠে যায়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষ নাজেহাল। তার উপরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। যে সমস্ত পরিবারে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ও ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। লোডশেডিংয়ের জেরে প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করতে গিয়েও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা অসুবিধায় পড়ছেন। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ পরিষেবা খারাপ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইদানীং এলাকায় প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে। প্রায়ই ভোল্টেজ আপ-ডাউন করায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। অথচ এলাকাতেই রঘুনাথপুর ও সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পাঞ্চেত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার কথা নয়। অথচ দিনের পর দিন বিদ্যুৎ পরিষেবার নামে প্রহসন চলছে। বিদ্যুতের বিল বেড়ে চলেছে। কিন্তু, পরিষেবা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। অথচ কেউ বাড়িতে একটু বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেই, তাঁকে লোড বাড়ানোর জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পরেও লোড বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে বিল দিতে না পারলে ফাইন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ কেটেও দেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভকারী দয়াময় মিত্র, সুজল মণ্ডল, বিকাশ মণ্ডলরা বলেন, আগে সারাদিনে কোনওরকমে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলত। বর্তমানে সর্বসাকুল্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দু’-তিন ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আবার পাওয়ার আপ ও ডাউন করার জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক ফিটারের সঙ্গে অন্যটি সংযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বৈদ্যুতিক চাপ বাড়ছে। যার জন্য লোডশেডিং বেড়েই চলেছে। আগে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। তাই এদিন আমরা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছি।
নিতুড়িয়া ব্লকের বিডিও প্রবীরকুমার সিনহা বলেন, বিক্ষোভকারীরা যেভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তা কাম্য ছিল না। তবু তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে জানানো হয়েছে। আগামী ১৫দিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ