মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: মালদহের প্রাচীন শহর পুরাতন মালদহ। ওই শহরে মহাপ্রভুর ঠাকুর বাড়ি, শ্যামরাই সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী মন্দির রয়েছে। মন্দিরের মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ, বলরাম, রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহগুলি বহু প্রাচীন। রামকেলি মেলা শেষ হলে বহু দূর-দূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীর সেখানে ছুটে আসার রেওয়াজ রয়েছে। মন্দিরগুলিতে নিত্য অন্নভোগ হয়। পুরানো মন্দির বলে এখনও ঐতিহ্য ও গরিমায় অমলিন। মন্দিরগুলির জন্য ওই এলাকা ‘দেব ভূমি’ হিসাবে পরিচিত। তবে মন্দির হেরিটেজ তকমা আজও পায়নি। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, ওই মন্দিরগুলি ধুঁকছে। বিশেষ করে মহাপ্রভুর ঠাকুর বাড়ির দশা জরাজীর্ণ। মন্দিরের রং চটে গিয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেওয়াল থেকে বহু পুরানো ইট উঁকি দিচ্ছে।
পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসক তথা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বশিষ্ঠ ত্রিবেদী বলেন, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে ওই এলাকায় ১৪টি প্রাচীন মন্দির রয়েছে। আমি যখন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম তখন হেরিটেজের বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। অনেক দূর এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু হয়নি। নতুন রাজ্য সরকারের এসব করা উচিত।
৫২০ বছর আগে রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামীকে দীক্ষা দিতে মালদহের রামকেলিতে চরণধূলি দিয়েছিলেন শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। জেলার প্রাচীন পুরাতন মালদহ শহরের মধ্যে দিয়ে মহানন্দা ও কালিন্দী নদী চলে গিয়েছে। স্থানীয় এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, ওই নদী এলাকা দিয়ে মহাপ্রভুর যোগসূত্র রয়েছে। সেজন্য ওই এলাকায় প্রাচীন মন্দির নির্মাণ হয়। মহাপ্রভুর ঠাকুর বাড়িতে ৬০ বছর ধরে পুজো করে আসছেন ওড়িশার বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র ত্রিপাঠী। তিনি বলেন, আমাদের মন্দির বহু পুরনো। অবস্থা ভালো না। দেখা উচিত। উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, প্রথমে স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। কেউ উদ্যোগ নিলে আমাদের কাছে প্রস্তাব দিলে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে। নিজস্ব চিত্র