সংবাদদাতা, বহরমপুর: মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশিকা না মেনে মুর্শিদাবাদ জেলার বহু বিদ্যালয়ে আগেই তৃতীয় সামেটিভ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পর্ষদের তরফে ১ ডিসেম্বরের আগে পরীক্ষা নিতে নিষেধ করা হয়েছিল। অথচ বহরমপুর শহরেই বেশ কয়েকটি স্কুল কর্তৃপক্ষ নির্দেশিকা অমান্য করে ২৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকমহলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, স্কুলে শিক্ষাদিবস এমনিতেই কমে গিয়েছে। কীভাবে এত তাড়াতাড়ি সিলেবাস শেষ হল? অনেকক্ষেত্রে সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন।
যদিও এবিষয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) জয়ন্ত হালদার বলেন, পর্ষদের নিয়ম মানতে সবাই বাধ্য। তবে কিছু বিদ্যালয়ে প্রচুর ছাত্র রয়েছে। দুই হাফে নিলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা যাবে না। এটা জেনেই ওই সমস্ত স্কুল আগে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করছে। তবে সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ সিলেবাস শেষ করেই পরীক্ষা নিচ্ছে।
গত ২০ জুন মধ্যশিক্ষা পর্যদের ডেপুটি সেক্রেটারি (অ্যাকাডেমিক) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের তৃতীয় সামেটিভ পরীক্ষা ডিসেম্বরের ১-১০ তারিখের মধ্যে নিতে হবে। ওই নির্দেশিকায় ১ডিসেম্বরের আগে পরীক্ষা নিতে নিষেধ করা হয়েছে। তার আগে প্রশ্নপত্র তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একমাত্র দশম শ্রেণির জন্য তৃতীয় সামেটিভের সময় ৩-১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর ২১নভেম্বর পর্ষদের তরফে ফের অনুরূপ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দু’বার একই বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও দেখা যাচ্ছে, জেলার বহু স্কুল কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। কোথাও ইতিমধ্যে তৃতীয় সামেটিভ পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও ২৪-২৫নভেম্বর থেকে পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এসমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা এগিয়ে আনায় অভিভাবকদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে সিলেবাস কীভাবে শেষ হল-তা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন। বহরমপুরের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার মেয়ে শহরেরই একটি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। গরমের ছুটি, পুজোর ছুটি বাদ দিলেও স্কুল অনেকসময় বন্ধ থাকছে। এর মধ্যে সিলেবাস কীভাবে শেষ হতে পারে? শেষ হলেও তা একপ্রকার দায়সারা হয়েছে। অপর অভিভাবক হিমাদ্রিশেখর রায় বলেন, তাড়াহুড়ো না করে পরীক্ষার জন্য পড়ুয়াদের আর ক’টা দিন সময় দিলে ভালো হত। অনেক স্কুলই তাড়াতাড়ি পরীক্ষা নিয়ে ছুটি দিতে চলেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। অভিভাবকদের দাবি, পড়ুয়ারা সবাই যাতে পাঠ্য বিষয় ভালোভাবে বুঝতে পারে, সেজন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্কুলে পড়াশোনার পর পরীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ পর্ষদের নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করছে।