সংবাদদাতা, কান্দি: সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ভরতপুর ১ ব্লকের বাসিন্দাদের একাংশ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৫০০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ উঠল কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এরা বিজেপির কর্মী। তারা মতুয়া মহাসংঘের কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে তুলছে।। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই ওই ব্লকের পল্লিশ্রী, হরিনগর, গৌরীনগর, গোপালপুর, কুলুপুকুর ইত্যাদি গ্রামগুলির বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। ওই গ্রামগুলির অনেকেরই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। আবার তাঁদের কাছে বৈধ নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণও নেই। তাই তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কার্যত প্রতিটি গ্রামে একজন করে বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার ভরসা দিয়ে জনপ্রতি ৫০০ বা বেশি টাকা নিচ্ছে। সঙ্গে বাড়ি বা জমির দলিল, এপিক কার্ড, আধারকার্ডও নেওয়া হচ্ছে। বদলে কাউকে মতুয়া মহাসংঘের কার্ড দেওয়া হয়েছে, কাউকে বা কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই ব্লকের সিজগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রাসমিনা বেগম বলেন, টাকা তোলার ঘটনা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। কয়েকশো বাসিন্দার থেকে টাকা তোলা হয়েছে। সম্প্রতি তেমনই একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক বয়স্ক মহিলা বলছেন, গ্রামের সুকুমার ডাক্তার নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫০০ টাকা নিয়েছে। সঙ্গে দলিল, ভোটের কার্ড ও আধার কার্ড নিয়েছে। বলেছে এগুলি দিলে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। আমাকে এই কার্ডটিও (মতুয়া মহাসংঘের কার্ড) দেওয়া হয়েছে। তবে এটি কীসের কার্ড জানি না। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামগুলির প্রচুর বাসিন্দার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। আবার তাঁদের কাছে বৈধ নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণও নেই। হরিনগর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ২০০০ সালের আগে এদেশে আসার পরেও ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারিনি। সেই কারণে সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই বাধ্য হয়ে মতুয়া মহাসংঘের কার্ড পাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছি।
এ বিষয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অভিযুক্ত পল্লিশ্রী গ্রামের বাসিন্দা তথা মতুয়া মহাসংঘের ভরতপুর ১ ব্লক সহকারী সভাপতি সুকুমার ডাক্তার ওরফে সুকোমল বিশ্বাস বলেন, ঘটনার কথা ঠিক যে মতুয়া মহাসংঘের কার্ড পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা করে নিয়েছি। এই টাকায় প্রত্যেকের তিনটি করে নোটারি এফিডেফিট সহ অন্যান্য খরচের জন্য নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের কাগজপত্র ঠাকুরনগরের ক্যাম্পে পৌঁছে দিয়ে আসছি। ইতিমধ্যে গ্রামের ২০ থেকে ৩০ জন কার্ড পেয়ে গিয়েছেন। তবে এই কার্ড নাগরিকত্ব প্রমাণের কার্ড নয় বলেও জানিয়ে দিয়েছি।
আর এ নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, মতুয়া কার্ডের কোনও মূল্য নেই। ওটা একটি সাংগঠনিক ব্যাপার। এর সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনও যোগ নেই। বিজেপির কিছু ধূর্ত নেতা, বিধায়ক এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্প খুলে টাকা তুলছে। সাধারণের টাকায় বিজেপির নেতারা গাড়ি চড়ে ঘুরছেন। কান্দির বিজেপি নেত্রী বিনীতা রায় বলেন, মতুয়া মহাসংঘের কার্ডের ব্যাপারে বলতে পারছি না। তবে আমার বাড়িতে যাঁরা আসছেন সিএএতে আবদন করার জন্য তাঁদের সাহায্য করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, সুকুমার ডাক্তার নামে কোনও কার্যকর্তা আছেন বলে জানা নেই। সিএএতে দরখাস্ত যে কোনও ব্যক্তি অনলাইনে করতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী নিজেদের মতো করে টাকা নিতে পারে। সেখানে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু আমাদের দল কারও কাছে থেকে কোনও টাকা নিচ্ছে না।