Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা কমিটিতে বাদ বহু দাপুটে নেতা, বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ

জেলা কমিটিতে রদবদল হতেই বিক্ষোভের আঁচ পড়ল পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলা বিজেপিতে। পুরুলিয়ার নতুন জেলা কমিটিতে ঠাঁই হয়নি বহু আদি নেতার।

জেলা কমিটিতে বাদ বহু দাপুটে নেতা, বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া: জেলা কমিটিতে রদবদল হতেই বিক্ষোভের আঁচ পড়ল পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলা বিজেপিতে। পুরুলিয়ার নতুন জেলা কমিটিতে ঠাঁই হয়নি বহু আদি নেতার। এতদিন ধরে যাঁরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন, তাঁদের অনেকেই জেলা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। উল্টে সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের মতো জেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন বাম নেতাদের! বাঁকুড়ার জেলা কমিটিতেও বহু ‘অযোগ্য’ লোককে জায়গা দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে এদিন বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। 
বুধবার রাতে জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি নেতৃত্ব। পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে জেলার সহ সভাপতি পদে ছিলেন গৌতম রায়, অসীম চট্টোপাধ্যায়, কেদার সিং মুড়া, রবিন সিং দেও প্রমুখ। কাউকেই জেলা কমিটিতে রাখা হয়নি। জেলা কমিটি থেকে বহু সক্রিয় বিজেপি নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বরং কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বহু প্রাক্তন সিপিএম নেতা। যেমন, দোর্দন্ডপ্রতাপ বাম নেতা মণীন্দ্র গোপের এক সময়ের ছায়াসঙ্গী বিপ্লব মুখোপাধ্যায় জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। নতুন সহ সভাপতি সৌরভ সিংহ, মিডিয়া ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজ এসএফআইয়ের এক সময়ের সক্রিয় নেতা। 
বিজেপির নেতাদের একাংশের ক্ষোভ, পুরুলিয়ার সাংসদই বর্তমানে পার্টি চালাচ্ছেন। তাঁর দাপটেই বাকি নেতারা কার্যত কোণঠাসা। বিজেপি বিরোধীরাও মানেন, রাজ্যে বিজেপির উত্থান এই পুরুলিয়া থেকেই। তবে যাঁদের হাত ধরে বিজেপির উত্থান, সেইসব নেতাকেই জেলা কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এক বিক্ষুব্ধ নেতা বলেন, যাঁরা সাংসদের তল্পিবাহক, তাঁদেরই জায়গা হয়েছে কমিটিতে! এনিয়ে সাংসদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলা বিজেপির সভাপতি শঙ্কর মাহাত বলেন, দলে কোনও ক্ষোভ বিক্ষোভ নেই। সব দিক বিচার বিবেচনা করেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমরা জেলার সমস্ত আসনে জিতব। 
বিদায়ী সহ সভাপতি অসীম চট্টোপাধ্যায় বলেন, দল যা ভালো বুঝেছে, তাই করেছে। বিদায়ী সহ সভাপতি কেদার সিং মুড়া বলেন, যাঁদের জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অন্য দায়িত্ব দল নিশ্চয়ই দেবে। 
অন্যদিকে, জমি দালালি থেকে তৃণমূলের চরবৃত্তির অভিযোগ তুলে জেলা কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া একাধিক সদস্যকে বাদ দেওয়ার দাবিতে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন বাঁকুড়ার বহু বিজেপি নেতা-কর্মী। বুধবার রানিবাঁধে বিজেপি কার্যালয়ে দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। ১৫০ জনের সই সম্বলিত অভিযোগপত্র দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে ‘দাগি’দের বাদ না দেওয়া হলে রানিবাঁধে কেউ বিজেপি করবে না বলে কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 
রানিবাঁধ ব্লক বিজেপি-র কনভেনর অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, নতুন কমিটিতে জমি দালাল ও তৃণমূলের সঙ্গে ‘সেটিং’ করা লোকজনকে রাখা হয়েছে। আমরা শাসক দলের হাতে মার খেয়ে সংগঠন করি। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনে এক নির্দল প্রার্থীর প্রস্তাবক ও গত বিধানসভা ভোটে দলের পরাজয়ের পর তৃণমূলে যোগ দেওয়া এক নেত্রীকে জেলা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। খাতড়ার এক জমি দালালও কমিটিতে স্থান পেয়েছে। অবিলম্বে তাদের কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে। দলকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। দল ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে রানিবাঁধে বিজেপি-র পতাকা তোলার কোনও লোক থাকবে না। 
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। জেলা বিজেপির অন্যান্য নেতারাও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। 

Advertisement

- প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ