Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়িতে দু’টি বাড়ি নিয়েই অদ্ভুত গ্রাম, চাঁদপুর দেখতে আসেন ভিনজেলার বহু মানুষ

একটি মাত্র পরিবার আর দু’টি বাড়ি। তা নিয়ে একটি সম্পূর্ণ গ্রাম। বীরভূম জেলার সিউড়ি-১ ব্লকের নগরী পঞ্চায়েতের এই অদ্ভুত গ্রামের নাম চাঁদপুর।

সিউড়িতে দু’টি বাড়ি নিয়েই অদ্ভুত গ্রাম, চাঁদপুর দেখতে আসেন ভিনজেলার বহু মানুষ
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: একটি মাত্র পরিবার আর দু’টি বাড়ি। তা নিয়ে একটি সম্পূর্ণ গ্রাম। বীরভূম জেলার সিউড়ি-১ ব্লকের নগরী পঞ্চায়েতের এই অদ্ভুত গ্রামের নাম চাঁদপুর। এলাকাবাসী ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই গ্রাম তাঁরা দেখে আসছেন। এই আদ্ভুত গ্রাম দেখতে আসেন অনেক মানুষজনও। সিউড়ি শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই গ্রাম। পাথরচাপুড়ি মাজার থেকে পিছন দিকে কিলোমিটার দুয়েক রাস্তা গেলেই মিলবে একটি জঙ্গল। সেখান থেকে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে রয়েছে একটি পিচের রাস্তা। আর যেতেই রাস্তার ঠিক পাশেই দেখা যাবে একটি মাজার ও দু’টি বাড়ি। ওই এলাকাটি হল চাঁদপুর গ্রাম। সেখানে বসবাস করেন একই পরিবারের ১৬জন সদস্য। 

Advertisement

ওই পরিবারের সদস্য আব্দুল ফিরোজ জানান, ওই গ্রামে একটা মাজার রয়েছে। সেই মাজার দেখভালের জন্য তাঁর দাদু আব্দুল হামিদ ওই গ্রামে আসেন। তিনি মাজারে বসবাস করতেন। তাঁর দুই সন্তান দু’টি পৃথক বাড়ি করেছেন। বর্তমানে ওই দু’টি বাড়িই নিয়েই এই গ্রাম। ফিরোজবাবু জানান, বংশ পরম্পরায় সেখানে থাকছেন। তাঁরা মূলত ওই মাজারের দেখভাল করেন। আর কাজ কর্মের জন্য তাঁদের যেতে হয় পাথরচাপুড়ি গ্রাম। পরিবারের সদস্যদের থেকে জানা গিয়েছে, বহুকাল আগে বর্ধমানের রাজা জায়গা দিয়েছিলেন। সেই জায়গাতেই ওই বাড়ি নির্মাণ করা হয়। বর্তমান ওই বাড়ি ও মাজার ছাড়া বাকি অধিকাংশ এলাকা বনদপ্তরের। সুতরাং কেউ চাইলেও সেখানে ঘর বানাতে পারবে না। তাই আজও সেখানে মাত্র দু’টি বাড়ি নিয়েই চলছে সম্পূর্ণ একটি গ্রাম। 
পরিবারের আর এক সদস্যা কামেলা বিবি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বসবাস করি। কাজে জন্য পাথরচাপুড়ি যেতে হয়। বিশেষ করে কিছু কেনাকাটা কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য সেখানে যেতে হয়। তবে কোনও সমস্যা হয় না। পাশাপাশি জঙ্গলের মাঝে থাকতেও তাঁদের কোনও ভয় হয় না। বহুবছর আগে সেখানে দু’বার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন আর সেই আশঙ্কাও নেই। এছাড়া সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগ হয়ে গিয়েছে। তাই জঙ্গলের মাঝে হলেও আলোর সমস্যা হয় না। এই নিয়ে আব্দুল ফিরোজ বলেন, এখানে মাজারে অনেক মানুষ আসেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। তাই কোনও সমস্যা হয় না। আর যা সমস্যা ছিল, তা ধীরে ধীরে মিটেও গিয়েছে। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম পাথরচাপুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইমরাজ খান বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই গ্রাম দেখে আসছি। ওঁরা ওই একটি পরিবার ও দু’টি বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। অনেকে ওই গ্রামের মাজার দেখতে যান। অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা পিয়ারজাহান খান বলেন, ওই এলাকায় একটি পরিবার আছে। ওঁদের যেন কোনও সমস্যা 
না হয়, আমরা সব রকম খেয়াল 
রাখি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ