


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বহু নার্সিংহোম তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যদপ্তর কীভাবে সেগুলি চালুর অনুমতি দিয়েছে, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ধমানে স্বাস্থ্যদপ্তরে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। তার মদতেই এমন বেশ কিছু নার্সিংহোমে গজিয়ে উঠেছে। নবাবহাট, খোশবাগানের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমের কাছে অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার রাস্তা নেই। অনেক নার্সিংহোমে সর্বক্ষণ চিকিৎসক থাকেন না। হাতুড়েরাই ভরসা। অনেক জায়গায় দক্ষ নার্সও নেই। অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগেও নবাবহাটের একটি নার্সিংহোমে আগুন লেগেছিল। বরাতজোরে রোগীরা রক্ষা পেয়েছিলেন। এই বেআইনি কারবার বন্ধে নতুন সরকার কড়া পদক্ষেপ করুক, এমনটাই চাইছেন জেলার মানুষ। কয়েকদিন আগে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে এক প্রসূতির মূত্যু হয়। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে ইনজেকশন দিতেই ওই রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ওই অবস্থাতেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। তারপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নার্সিংহোম মালিক পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে একটি সংগঠনকে দিয়ে ওই প্রসূতির পরিবারের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ করায়। প্রসূতির এক আত্মীয় বলেন, এরকম বহু রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন। বর্ধমানে দালালচক্র সক্রিয়। তারাই ভুল বুঝিয়ে রোগীদের বিভিন্ন নার্সিংহোমে নিয়ে যায়। ওই সমস্ত নার্সিংহোমে তেমন পরিকাঠামো নেই। তবে শহরের সমস্ত নার্সিংহোম দালালনির্ভর নয়। অনেক নার্সিংহোমে ভাল পরিকাঠামো রয়েছে। তারা খুব একটা দালাল ঢুকতে দেয় না।
বর্ধমান শহরের বাসিন্দা জগ্গু সিং বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন সরকার এবিষয়ে নজর দেবে। তারা কোনো অনৈতিক কাজ করতে দেবে না। যে সমস্ত নার্সিংহোমে পরিকাঠামো নেই, সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা দরকার। বিজেপি নেতা অনীশ দাস বলেন, নতুন সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করা হয়েছে। যে সমস্ত নার্সিংহোম মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের সাবাধান হতে হবে। তা না হলে সরকার পদক্ষেপ করবে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, কোনো অনৈতিক কাজ সমর্থন করা যাবে না।
নার্সিংহোম মালিকদের অনেকেই বলছেন, কিছু লোকের জন্য তাঁদের সবার বদনাম হচ্ছে। শহরে বহু ভালো নার্সিংহোম রয়েছে। দালালরা সেখানে রোগীদের নিয়ে যায় না। যে সমস্ত নার্সিংহোমে পরিকাঠামো নেই, কমিশনের লোভে সেখানেই তারা রোগীদের নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের রোগীদের তারা বেশি টার্গেট করে। কারণ, রোগী মারা গেলেও গ্রামাঞ্চলের মানুষ সেভাবে প্রতিবাদ করতে পারেন না।