নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দামোদরের সৌজন্যে গলসির বহু প্রভাবশালী কোটিপতি হয়ে উঠেছে। নদের পাড়ের এই এলাকা কার দখলে থাকবে তা নিয়ে দড়ি টানাটানিও কম চলে না। দামোদর কব্জায় থাকলে আর পিছন ফিরে তাকানোর দরকার নেই। দামোদরের ‘আশীর্বাদে’ বদলে যায় জীবনযাপন। বন্ধ ঘরে নোটের বান্ডিল ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় এখন এই চর্চাই চলছে গলসিজুড়ে। স্থানীয়রা বলেন, এক সময় গলসি এলাকায় রমরমিয়ে অবৈধ বালির ঘাট চলেছে। নদীতে ট্রাক, ডাম্পার নামিয়ে বালি পাচার করা হয়েছে। গত বছর থেকে অবৈধ কারবারে কিছুটা ভাটা পড়েছে ঠিকই কিন্তু সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। এখনও বেশকিছু গ্রামের ভিতর দিয়ে বালি ভর্তি ট্রাক্টর যাতায়ত করে। গ্রামীণ রাস্তা ধরেই তা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে।
গলসির দু’টি ব্লকেই বালির ঘাট রয়েছে। বর্ষার আগে পর্যন্ত রমরমিয়ে কারবার চলেছে। নদীতে জল বাড়ার পর বালি তোলা বন্ধ হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, মাফিয়ারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। সমস্তস্তরেই তারা বিনিয়োগ করে। সেই কারণে অবৈধ কারবার চললেও কেউ প্রতিবাদ করে না। বর্ষার আগে কারবারিরা বালি তুলে বিভিন্ন জায়গায় মজুত করে। জমি দখল করে বালি রাখা হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায় না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর গলসির একটি গ্রামে বাঁকুড়ার এক কারবারি বালি মজুত করে। সে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি নেয়নি। আধিকারিকদের বিষয়টি নজরে আসার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেই সময় একাধিক প্রাভাবশালী ফোন করে ম্যানেজের চেষ্টা করে। তাতে অবশ্য চিঁড়ে ভেজে না। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা সফল হয়। তাতেই প্রভাবশালীদের পকেটে মোটা টাকা ঢোকে বলে অভিযোগ।
গলসির এক বাসিন্দা বলেন, এলাকার বহু প্রভাবশালী কোনও কাজ করে না। অথচ তারা দামি চারচাকা গাড়ি ছাড়া চলাফেরা করতে পারে না। জীবনযাপনের মান উঁচু পর্যায়ের। টাকা লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গলসি জুড়েই এখন এই চর্চায় মশগুল। তবে, ভিডিওতে যাঁদের দেখা গিয়েছে তাঁদের দাবি, অবৈধ লেনদেন হয়নি। কয়েকজন টাকা পেতেন। সেটাই মেটানো হচ্ছিল।
তবে, তাঁদের সাফাই গুরুত্ব পাচ্ছে না। টাকার উৎস নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন। গলসির এক জনপ্রতিনিধি বলেন বদনাম করার জন্য বহু পুরনো ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। স্থানীয়রা বলেন, এতদিন নদীতে জল থাকায় বালির কারবার বন্ধ ছিল। কয়েক দিন পর আবার ঘাট চালু হয়ে যাবে। তখন আবার টাকা উড়বে গলসিজুড়ে।-ফাইল চিত্র