নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বৃষ্টির জল হু হু করে বাড়িতে ঢুকতে শুরু করায় তখন সাতপাঁচ ভাবার উপায় ছিল না। অনেকে এক কাপড়েই বেরিয়ে চলে এসেছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে চরম উদ্বেগে কেটেছিল ত্রাণশিবিরে। সেখানে থাকলেও মন পড়েছিল বাড়িতেই। জল নেমে যাওয়ায় চারদিন পর ফিরে নিজেদের বাড়ির অবস্থা দেখে আর চোখের জল আর ধরে রাখতে পারলেন না তাঁরা। চাল, আলু থেকে শুরু করে বহু সামগ্রীই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই দুর্গতরা এদিনও তাঁরা রয়ে গেলেন রেল ওভারব্রিজের নীচে ত্রাণশিবিরে। ক্ষতিপূরণের দাবি তুললেন।
পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, জল নেমে গেলেও সাধুডাঙার বাসিন্দাদের বহু জিনিসপত্র ভেসে গিয়েছে। আমি নিজে সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছি। রেলের কারণেই এই পরিস্থিতি। আমিও বাসিন্দাদের হয়ে রেলের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছি। ত্রাণশিবির চালিয়ে যাওয়া হবে।
বেহাল নিকাশির জেরে গত মঙ্গলবার রাত থেকেই পুরুলিয়া শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুডাঙা এলাকা জলমগ্ন হতে শুরু করেছিল। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে কার্যত চমকে গিয়েছিলেন বাসিন্দারা। দেখেন, হাঁটুসমান জল জমে গিয়েছে বাড়িতে। তারপর ক্রমেই জল বাড়তে থাকে। এক গলার বেশি জলে সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদি পশু নিয়ে বাসিন্দারা ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সেই ত্রাণশিবিরেও জল ঢুকে গিয়েছিল। বিপর্যয় মোকাবিলা দল এসে ত্রাণ শিবির থেকে দুর্গতদের উদ্ধার করেন। রেল ওভারব্রিজের নীচে তাঁদের আশ্রয় হয়। তবে বৃহস্পতিবারের পর থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করে। একদম নিচু কিছু এলাকা বাদ দিলে সাধুডাঙার অধিকাংশ এলাকা থেকেই জল বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
এদিন ত্রাণশিবির থেকে বাড়ি ফিরে বাসিন্দারা দেখতে পান, বহু জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে বেলা বাউরি বলেন, হাঁড়ি, কড়াই থেকে শুরু করে শাড়ি, কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। সব ভেসে গিয়েছে। লেপ, তোষক, বালিশ সব জলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। একই অবস্থা অঞ্জনা বাউরিরও। তিনি বলেন, আগে কখনও এরকম অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়নি। লোকের বাড়িতে কাজ করে একটা একটা করে জিনিসপত্র কিনেছিলাম। কিছুই রইল না। বাড়ি ফিরে নিজের শখের টিভির খোঁজ করতে থাকেন গোবিন্দ মাহাত। তিনি বলেন, জলে টিভি ভেসে গিয়েছে। এদিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বহু মাটির বাড়ি ধসে গিয়েছে। বহু বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। বাড়ি ধসে গিয়েছে ধুরু বাউরির। ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, জল নামতেই ত্রাণশিবির থেকে ফিরেছি। দেখছি বাড়িটাই আর নেই! আর এক বাসিন্দা ফুস্কু মাহাত বলেন, এখনও জল বের হয়নি। দুই ছেলেকে নিয়ে থাকি। যা অবস্থা যে কোনও সময় বাড়ি ধসে পড়তে পারে।ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা। আরতি মাহাত, অঞ্জনা মাহাতরা বলেন, রেললাইন পাতার কাজ করতে গিয়ে নিকাশি নালা বুজিয়ে দিয়েছে। সেকারণেই আমাদের এই অবস্থা। অবিলম্বে রেল ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করুক। পুরুলিয়ার সাধুডাঙায় তোলা নিজস্ব চিত্র।