পক্ষে
পক্ষে
শ্বেতা চট্টোপাধ্যায়
হ্যাঁ একদমই। এখন বেশিরভাগ হোটেল রেস্তরাঁতে পুরুষ শেফই বেশি। দিন বদলেছে, বদলেছে চিন্তাধারা। তাই রান্না মানে শুধুই একজন মেয়ে কেন! ছেলে নয় কেন! এই কেন-র উত্তর পুরুষরাই দিচ্ছেন। রান্নাবান্নায় একজন নারী যতটাই পটু, বর্তমান সময়ে একজন পুরুষও তেমন সমান বা অনেকক্ষেত্রে বেশি পটু। সেই যে পুরনো দিনের গান ‘আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না’ সেই গানের লাইনের মতোই আজকের দিনে অনেকটা মিল পাওয়া যায়। শেফ অথবা যে কোনও ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নয়, মানুষ আর তাঁর মেধাই বিবেচ্য হয় ।
স্নাতকোত্তর পড়ুয়া
স্নেহা দাস
আজকের দিনে একটা প্রচলিত কথা শোনা যাচ্ছে যে মেয়েরা এখন ছেলেদের থেকে কোনও অংশে কম নয়, তারাও ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান তালে এগিয়ে চলেছে। ঠিক তেমনই ছেলেরাও এখন মেয়েদের থেকে কোনও অংশে কম না, তারাও এখন মেয়েদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে হেঁশেল সামলাচ্ছে। নারী নিজেদের ঘরে রান্নাবান্না সামলে নিলেও, ছোট বড় যত হোটেল-রেস্তরাঁ রমরমিয়ে চলছে তাতে কিন্তু পুরুষরা নারীদের তুলনায় অনেকটাই বেশি এগিয়ে। আর সেই রান্না কিন্তু রূপে-রসে, স্বাদে-গন্ধে এবং পরিবেশনায় অতুলনীয়। কর্মজগতের পাশাপাশি পুরুষরা রান্নাতেও অনেক বেশি পারদর্শী। এমনকী, এত সুন্দর নিখুঁত আন্দাজ তাঁদের, যে মুখে দিয়ে বোঝার উপায়ই নেই সেটা কোনও নারীর হাতের ছোঁয়ায় তৈরি না পুরুষের! অতএব সত্যিই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে রান্নাবান্নায় একজন নারী অপেক্ষা একজন পুরুষ অনেক বেশি প্রশংসার দাবি রাখে।
ছাত্রী
কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস
একটা সময় ছিল যখন বাঙালি হেঁশেলে পুরুষের প্রবেশ ছিল একপ্রকার অঘোষিত বারণ। কিন্তু আজ বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবী জুড়েই পুরুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে নানা অভিনব পেশা বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে আকর্ষণের পেশা ‘শেফ’। বর্তমানে রন্ধনশিল্পে শুধুমাত্র নারীরা নয় পুরুষরাও আজ সেরার সেরা শিরোপা ছিনিয়ে আনতে সদা প্রস্তুত। শুধু দেশের হেঁশেলে নয়, বিদেশের মাটিতেও কিচেন সমৃদ্ধ হয়েছে পুরুষ রন্ধনশিল্পীর গুণে। পাশাপাশি প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন পদের সৃষ্টি ঘটিয়ে চলেছেন ভোজনবিলাসী পুরুষ শেফ!
শিক্ষক
পায়েল হালদার
আজকের পেশাদার রন্ধনজগতে পুরুষদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আন্তর্জাতিক হোটেল, রেস্তরাঁ ও কুকিং শো-তে অধিকাংশ নামজাদা শেফ পুরুষ। শুধু স্বাদে নয়, উপস্থাপন, ইনোভেশন ও কিচেন ম্যানেজমেন্টেও তাঁরা দারুণ দক্ষ। রান্নাকে তাঁরা কেবল দৈনন্দিন কাজ হিসেবে দেখেন না, একে শিল্প ও বিজ্ঞান হিসেবে তুলে ধরেন। এক সময় যেখানে রান্না ছিল গৃহবধূদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ, সেখানে আজ পুরুষরাই পেশাদার রন্ধনশিল্পের নেতৃত্বে। নারীও সমানতালে এগচ্ছেন ঠিকই, তবে বর্তমানে রান্নার পেশাগত জগতে পুরুষরাই সামনের সারিতে। তাই বলা যেতেই পারে—রান্নায় এখন পুরুষ এগিয়ে।
ছাত্রী
বিপক্ষে
দীপংকর মান্না
যিনি পেশাদার রাঁধুনি, বিভিন্ন রান্নার কৌশল ও খাদ্যশিল্পে দক্ষ, তিনিই শেফ। কোথাও বলা নেই শেফ মানে পুরুষ হতেই হবে। তাহলে এত হইচই কেন? আজ অনেক হোটেল ও রেস্তরাঁতে মহিলাদের শেফ হিসেবে দেখা যায়। কলকাতা সহ নানা শহরের ফুটপাতের পাইস হোটেলগুলো বেশিরভাগ মহিলাদের দখলে। স্কুলে স্কুলে মিড ডে মিল প্রকল্পে মহিলারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রান্না করেন। ঘরোয়া ৫০-১০০ জন মানুষের রান্না বাড়ির মহিলারা অনায়াসে করে ফেলতে পারে। পেশাদার কেটারিং ব্যবসায় মহিলারা নানা ধরনের সুস্বাদু খাদ্য পরিবেশন করেন। আধুনিক মহিলারা ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে ঘরে ঘরে পোক্ত রাঁধুনি। এরপরেও কী করে বলি শেফের কাজে পুরুষরা এগিয়ে?
রিসেপশনিস্ট
সঙ্গীতা ঘোষ
বর্তমান সময়ের নিরিখে যে কোনও পেশাতেই পুরুষ বা নারী সমানভাবে এগিয়ে আসছে। দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং আত্মবিশ্বাস কর্মক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়, লিঙ্গ নয়। দৈনন্দিন রান্না করে যেখানে উপার্জনের সুযোগ রয়েছে, সেখানে বহু নারী যুক্ত আছেন। চাকুরিরতা বহু মহিলা এখনও রান্নার দায়িত্ব একাই সামলান। খিদের থালায় নারীর হাতের জাদু মেশানো থাকে। রান্নায় নারী কিংবা পুরুষ, কে এগিয়ে সেই বিতর্কে যাওয়ার আগে বলা প্রয়োজন যে পেশার খাতিরে বহু পুরুষ এখন রান্নার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। রোজকার যাপনে বেশিরভাগ সংসারেই যখন রান্নার কাজটা মহিলাদের করতে হয়, সেখানে বহু শেফ পুরুষ বলেই রান্নায় পুরুষ এগিয়ে, একথা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না ।
শিক্ষিকা
অভিনন্দিতা রায়
বর্তমান যান্ত্রিক দুনিয়াতেও আজ মহিলারা রান্নায় দক্ষ। বিকল্প রোজগারের পথ বেছে
নিতে বহু পুরুষ শেফ পেশাদারি রান্নায় এলেও মহিলারা কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই। বাড়িতে রান্নাঘরের দায়িত্ব সুনিপুণভাবে আজীবন মেয়েরাই সামলেছেন। প্রতি প্রজন্মের মেয়েরা তাঁদের মা-দিদিমার থেকে রান্নার কারিগরি আয়ত্ত করার সুযোগ পেয়েছেন অনেক বেশি। এখন হোটেল, রেস্তরাঁয় কিংবা হোম ডেলিভারির মতো কাজের ক্ষেত্রে মহিলারা যেমন শেফ হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন তেমনই স্বনিযুক্তি মালিকানার ক্ষেত্রে বহু মহিলা ‘শেফ’ হিসাবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের দাবিদার।
ছাত্রী
ছায়ারানি মণ্ডল
রান্নায় কিছু পুরুষ সফল। তবু বলা যাবে না যে পুরুষরা এগিয়ে। বেশিরভাগ ঘরেই রান্নার প্রধান দায়িত্ব আজও নারীর কাঁধেই। পেশাদার ক্ষেত্রেও নারী শেফদের স্বীকৃতি কম, বরং পুরুষরা বেশি প্রচার পায়। রান্না এখনও বহু নারীর প্রতিদিনের অব্যক্ত শ্রম, যেখানে কোনও প্রশংসা থাকে না। পুরুষরা রান্নায় আগ্রহী হলেও সংখ্যায় কম ও অনেকটাই শখের টানে। তাই রান্নায় এখনও নারীরাই এগিয়ে।
চাকরিজীবী