সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: লোকজন গাড়ি নিয়ে ভারত থেকে ভুটানে যাচ্ছে সস্তায় জ্বালানি আনতে। আর সেকারণেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চামুর্চি চেকপোস্টের কাছে দু’কিমি রাস্তায় যানজট লেগেই থাকছে। বানারহাট থেকে চামুর্চি যাওয়ার আন্তর্জাতিক সার্ক রোডের একাংশ অবরুদ্ধ থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। শুধু ছোট গাড়ি নয়, একেক সময় বড় গাড়িও এসে এই চেকপোস্টের কাছে সার্ক রোডের উপর দাঁড়িয়ে পড়ায় যানজট হচ্ছে। সকলেরই লক্ষ্য ভারতের থেকে অর্ধেক দামে পেট্রোল নিয়ে আসা। শতশত গাড়ি রোজ ভুটানে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারও জ্বালানি ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যানজটের কারণটি পুলিশের অজনা নয়। তাদের বক্তব্য, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
চামুর্চি চেকপোস্টের বাসিন্দা বিধান সরকার বলেন, ভারতীয় গাড়িগুলি ভুটান থেকে সস্তার তেল নিয়ে আসতে গিয়ে প্রতিদিনই চেকপোস্টের কাছে দাঁড়ানোয় যানজট হচ্ছে। কখনও কখনও পরিস্থিতি এমন হচ্ছে যে, অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারছে না। কিছু গাড়িচালক ভুটান থেকে পেট্রোল নিয়ে এসে এখানকার দোকানে দোকানে বিক্রি করছে। এতে রাজস্ব মার খাচ্ছে রাজ্য ও কেন্দ্র। স্থানীয় কাপড় ব্যাবসায়ী তাজ খান বলেন, এমন যানজটের কারণে ভুটান থেকে লোকজন কার্যত এই রাস্তায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ব্যাবসায় মার খাচ্ছি। যদিও চামুর্চি আউট পোস্টের ওসি আদিল লিম্বু বলেন, রোজই যানজট হচ্ছে। আমরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছি। মূলত এখানকার ছোট গাড়িগুলি ভুটানে তেল নিতে যাওয়ার জন্যই সার্ক রোডে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভারতে পেট্রোলের দাম বর্তমানে লিটার প্রতি ১০৬ টাকার কাছাকাছি। আর ভুটানে লিটার প্রতি মাত্র ৬৩ টাকার মতো। তাই ভারত থেকে প্রচুর গাড়ি ভুটানে যাচ্ছে। সেখানে ট্যাঙ্কি ফুল করে নিয়ে আসছে ভারতে। পরবর্তীতে এপারে ওই পেট্রোলই লিটার প্রতি ৮৫ টাকা করে বিক্রি করছে। আর এই কারণে নাগরাকাটা, বানারহাট এলাকার পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি কমে গিয়েছে বলে স্থানীয় পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন।