সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখতে পারছে না রাজ্য বিজেপির অনেকেই। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য দিল্লির নেতারা প্রতি জেলায় ভোটাভুটি করার ফরমান দিয়েছেন। মণ্ডল সভাপতি, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি এবং জেলা কমিটির সদস্যদের ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সেইমতো অনেক জেলাতেই ভোটাভুটির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জেলার নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, এটা ‘আইওয়াশ’ ছাড়া কিছুই নয়। দিল্লির নেতারা জেলার নেতাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন। কারণ প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তারা তিন-চারটি সংস্থাকে নিয়োগ করছে। তারা বহু দিন ধরেই তথ্য জোগাড় করছে। তারপর এই ভোটাভুটির কী মূল্য রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
বিজেপির এক নেতা বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ভোটাভুটি হচ্ছে। ভোটদানের সময় কেন্দ্রীয় নেতারা হাজির থাকছেন না। তাঁরা জেলার নেতাদের হাতে ব্যালট পেপার দিচ্ছেন। নেতারা ব্যালট পেপারে তাঁদের পছন্দের তিনজন প্রার্থীর নাম লিখতে পারবেন। পরে সেটা বক্সে জমা দেবেন। ভিনরাজ্য থেকে আসা নেতারা সেটা সংগ্রহ করে দিল্লি নিয়ে যাবেন। যিনি বেশি ভোট পাবেন তাঁকেই প্রার্থী করা হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ওই এলাকার প্রাক্তন এবং বর্তমান মণ্ডল সভাপতিরা ভোট দিতে পাবেন। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে জেলা কমিটির কোনও নেতা থাকলে তিনিও ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশ সত্ত্বেও অনেকেই ভোট ‘বয়কট’ করছেন। দলের আর এক নেতা বলেন, দিল্লির নেতৃত্ব এরাজ্যের নেতাদের বোকা ভাবে। সবাই জানে কীভাবে প্রার্থী বাছাই হয়। প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠরাই টিকিট পেয়ে যান। বহিরাগত নেতারা এরাজ্যে এসে স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি বা প্রাক্তন সভাপতিদের ক্ষোভ টের পেয়েছেন। সেই ক্ষতে মলম দেওয়ার জন্য তারা এই নাটক সাজিয়েছে। সেটা বুঝে অনেকেই ভোট দিতে আসছেন না। দু’দিন আগে বর্ধমানের দু’টি সাংগঠনিক জেলায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ভোটাভুটি হয়েছে। তার আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভোটাভুটি হয়েছে। নেতৃত্বের কেউ কেউ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ভালভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্থানীয় নেতা এবং কর্মীদের মতামত নিয়ে প্রার্থী ঠিক করলে এর থেকে ভালো কিছু হয় না। কিন্তু এর আগে কোনওবারই তেমনটা হয়নি। বহু জায়গাতেই অন্য দল থেকে আসা নেতাদের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। অথচ যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। তা নিয়ে ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। সেকারণেই হয়তো নেতৃত্ব লোকদেখানো এমন পন্থা নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে নেতৃত্বের বড় অংশ সংশয়ে রয়েছে।