নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চাষের জমি থেকে এখনও জল নামেনি। পূর্ব বর্ধমানের রায়না-২, আরামবাগ মহকুমার খানাকুল, মুর্শিদাবাদের কান্দি এবং ঘাটাল মহকুমার বহু জমি জলের তলায় রয়েছে। বীরভূমের দুবরাজপুরে হিংলো নদীর দু’ধারে ভাঙন শুরু হয়েছে। লাভপুরেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ডিভিসি নতুন করে ৬৬হাজার ৮০০কিউসেক হারে জল ছাড়ছে। এরমধ্যে ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটিতে চাষিদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। বহু জমির ধানগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বীজের অভাবে ওই জমিগুলিতে নতুন করে ধান রোপণ করাও সম্ভব নয় বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এসব এলাকার চাষিদের ভরসা শস্যবিমা প্রকল্প। রাজ্য সরকার বিমা করানোর জন্য জোর দিয়েছে। খোদ কৃষিদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং মীনা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে চাষিদের বিমার ফর্ম বিলি করছেন। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রায়নায় এসে তিনি বলেন, সরকার চাষিদের পাশে রয়েছে। সবাই যাতে বিমা করতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হবে।
চাষিরা বলেন, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি ডিভিসির দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপের খেসারত দিতে হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। রায়নার দেবখালের জল টপকে চাষের জমিতে ঢুকছে। মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমার ব্রাহ্মণী, ময়ূরাক্ষী, বাবলা নদীর জল চাষের জমিতে ঢুকেছে। সাড়ে ৩০০ একর তুঁতচাষের জমি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ধানজমিতেও জল রয়েছে। খানাকুলের নিচু এলাকাগুলির পরিস্থিতি আরও খারাপ। এইসমস্ত এলাকায় আদৌ এই মরশুমে চাষ হবে কিনা তা নিয়ে কৃষকরা সংশয়ে রয়েছেন। রায়নার চাষি সুমন্ত দাস বলেন, খরচ করে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। বহু জমিতে ধান রোপণও হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকেই জমিতে জল জমে রয়েছে। এখন জল নেমে গেলেও ধান বাঁচানো সম্ভব নয়। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ধান রোপণ করতে না পারলে ফলন হবে না। বীজ না থাকায় নতুন করে ধান রোপণ করাও যাবে না। চাষিরা বলেন, এরপর আবার টানা বৃষ্টি শুরু হলে চাষের ক্ষতি আরও বাড়বে। কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে জুন, জুলাই বা আগস্ট মাসে এত বৃষ্টি হয়নি।
ঘাটাল মহকুমার পরিস্থিতিও উন্নতি হয়নি। দাসপুর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের তলায়। রানিচক, খানজাপুর, কামালপুর, চাঁইপাট, নিশ্চিন্তপুর, সাহাচক সহ একাধিক পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মাঠঘাট জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, চন্দ্রেশ্বরের স্লুইসগেটের একাধিক গেট খোলা হয়েছে। রানিচকে বেশ কয়েকটি পাম্প চালানো হচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
লাগাতার বৃষ্টির কারণে ভাগীরথী নদীর জলস্তর বেড়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়েই বইছে নদীর জল। যার জেরে কালীগঞ্জ ব্লকের নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে গোবরা পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর, নয়াচর, বাদলিপাড়া এই তিনটি গ্রাম জলের তলায় চলে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষের জমি।ওই এলাকার প্রায় ৮০০বিঘা জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামের হাজারের বেশি বাসিন্দা জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। বৃষ্টি বাড়লে চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, দাবি গ্রামবাসীদের। বর্তমানে গ্রামের বাসিন্দারা নৌকায় করেই চলাচল করছেন। পূর্ব বর্ধমানের দামোদর, অজয়েও জল বেড়েছে। - নিজস্ব চিত্র