Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬

থামল লড়াই, আড়াই বছর আগে মণিপুরে গণধর্ষিতা তরুণীর মৃত্যু

২০২৩ সালের ১৫ মে। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক কুকি তরুণী। তাঁকে অপহরণ করে চরম অত্যাচার চালানো হয়।

থামল লড়াই, আড়াই বছর আগে  মণিপুরে গণধর্ষিতা তরুণীর মৃত্যু
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: ২০২৩ সালের ১৫ মে। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক কুকি তরুণী। তাঁকে অপহরণ করে চরম অত্যাচার চালানো হয়। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল মেইতেইদের দিকে। ওই ধাক্কা সামলে আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারলেন না নির্যাতিতা। থেমে গেল আড়াই বছরের লড়াই। এতদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার পর গত ১০ জানুয়ারি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বিচার চেয়ে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু সব আর্তিই বিফলে গিয়েছে।  মণিপুরে কুকি ও মেইতেইদের জাতি সংঘর্ষের আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি। তার মধ্যেই নির্যাতিতার মৃত্যু নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল। তরুণীর মায়ের আক্ষেপ, ‘মেয়ের বিচার অধরাই থেকে গেল।’

Advertisement

২০২৩ সালে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পরই আক্রমণের শিকার হন ওই কুকি তরুণী। কীভাবে তাঁর উপর নারকীয় অত্যাচার চালানো হয়েছিল, পরে তার বিবরণ দিয়েছিলেন নির্যাতিতা। ইম্ফলে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন তিনি। ঘটনার দিন একটি এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। সেই সময় চারজন মিলে তাঁকে একটি গাড়িতে তোলে। চালক ছাড়া বাকি তিনজন তাঁকে চলন্ত গাড়িতেই ধর্ষণ করে। এরপর তাঁকে একটি পাহাড়ের উপর কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁর উপর ফের অত্যাচার চালানো হয়। তরুণী জানিয়েছিলেন, ওই অকথ্য নির্যাতনের পরদিন

কোনোমতে দুষ্কৃতীদের ডেরা থেকে পালিয়ে যান। একটি অটোরিকশতে চেপে কাংপোকপির ত্রাণ শিবিরে পৌঁছান। সেখান থেকে তাঁকে এয়ারলিফট করে গুয়াহাটির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, ঘটনার পরেও পুলিশ কোনো এফআইআর নেয়নি। প্রথমে ২০২৩ সালের জুন মাসে জাতীয় মহিলা কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। জুলাই মাসে পুলিশ প্রথম অভিযোগ দায়ের করে। পরে সিবিআই মামলার তদন্তভার নেয়।

তরুণীর মা জানিয়েছেন, ‘শরীরে একাধিক আঘাতের ফলে শ্বাসকষ্ট, অনিদ্রাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিল ও। মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছিল। সবসময় আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকত। বলত, বাঁচতে চাই না। মেয়ে মৃত্যুর আগেও বিচার পেল না।’ চূড়াচাঁদপুরের সংগঠন ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরাম (আইটিএলএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তরুণী আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গেলেও জরায়ু সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তিনি মানসিক ট্রমারও শিকার হয়েছিলেন। গুয়াহাটিতে চিকিত্সা চললেও লাভ হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ