সংবাদদাতা, মানিকচক: মানিকচকের মথুরাপুরের শঙ্করটোলার ফুলহার নদীতে ব্যাপক ভাঙনে তলিয়ে গেল ১০০ মিটার এলাকা সহ বেশকিছু যানবাহন। সোমবার ভোররাতে হঠাৎ এই ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই তাঁরা বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র যাওয়া শুরু করেছেন। এদিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর।
শঙ্করটোলায় একেবারে ফুলহার নদীর গা ঘেঁষে বসবাস দুই শতাধিক পরিবারের। সাত বছর আগে ভূতনি ব্রিজ নির্মাণের সময় ব্যাপক ভাঙন হয়েছিল। ন’টি বাড়ি সহ মন্দির কয়েক ঘণ্টার ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছিল। এদিনও কার্যত সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। এদিন ভোরে শঙ্করটোলা গ্রামের ফেরিঘাটের দিকের বিস্তীর্ণ অংশ ভাঙনে তলিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রথম দেখেন স্থানীয় এক মৎস্যজীবী। তাঁর চিৎকারে ঘুম ভাঙে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের। ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন হয়। নদীর ধারে থাকা দু’টি ট্রাক্টর, দু’টি সেচদপ্তরের গাড়ি ও বেশকিছু মোটরবাইক নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। তীরবর্তী এলাকায় থাকা একটি দু’তলা ভবনের নীচের অংশ ভেঙে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে ভোরবেলায় ছুটে আসেন শঙ্করটোলা ও পাঠানপাড়ার বাসিন্দারা। তাঁরা বাঁধে থাকা গাছপালা কেটে নদীতে ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বালির বস্তার মাধ্যমে ভাঙন রোধের কাজ।
স্থানীয় বাসিন্দা অনীত মণ্ডল বলেন, কাল যেখানে নদীতে স্নান করেছি সেই জায়গা আজ নেই। ভোররাতে ঘুম না ভাঙলে আমরাও তলিয়ে যেতাম। একটি ঘর নদীতে তলিয়েছে। তাই বাকি অংশ বাঁচাতে বাড়িঘর ভেঙে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু বাঁধ ও নদীর দূরত্ব একেবারেই কম।
অন্যদিকে, এদিন সাত সকালেই ভূতনি ও রতুয়ার বন্যা পরিস্থিতি এবং ভাঙনের কাজ খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের অ্যাডিশনাল প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মনীষ জৈন। এছাড়াও ছিলেন মালদহ জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া, পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব সহ অন্যান্য আধিকারিক। তাঁরা দক্ষিণ চণ্ডীপুরের কাটা বাঁধ, পশ্চিম রতনপুর, সূর্যাপুর সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এবিষয়ে জেলাশাসক বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমস্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে উন্নত ব্যবস্থা ও বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশেষ দল আসবে। তারা এলাকা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করবে। - নিজস্ব চিত্র।