সংবাদদাতা, লালবাগ: মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে দু’দিনব্যাপী হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। তারপর থেকেই আমে শোষক পোকার ব্যাপক উপদ্রব শুরু হয়েছে। অনেক বাগানে বোঁটা শুকিয়ে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। এর জেরে ফলনে ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। লোকসানের আশঙ্কায় আমচাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। শোষক পোকা দমনে চাষিরা দিনে দু’বার কীটনাশক স্প্রে শুরু করেছেন। এদিকে, আমের গুটি ঝরা শুরু হতেই এলাকার কচিকাঁচারা আম কুড়োতে বাগানে ভিড় জমাচ্ছে।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বৃষ্টি হলে শোষক পোকার তাড়াতাড়ি বংশবৃদ্ধি হয়। মার্চে বৃষ্টি হওয়ায় শোষক পোকার উৎপাত দেখা দিয়েছে। ইমিডা ক্লোরাইড ১৭.৮শতাংশ পরিমাণে জলে মিশিয়ে নিয়মিত কয়েকদিন দু’বেলা গাছে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
রাজ্য তথা দেশের আম উৎপাদনকারী জেলার মধ্যে মুর্শিদাবাদ অন্যতম। এই জেলায় প্রায় সর্বত্র আমবাগান লক্ষ্য করা যায়। তবে লালবাগ মহকুমায় আমবাগানের আধিক্য রয়েছে। গতবছর আমের অফ সিজন ছিল। ফলে আমচাষিদের তেমন লাভ হয়নি। এবছর সমস্ত আমবাগান মুকুলে ভরে উঠেছে। চাষিরা জানান, দেরিতে হলেও গাছে মুকুলের সম্ভার দেখে অন ইয়ারে প্রচুর ফলনের আশা করছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি হতেই শোষক পোকার উপদ্রবে তাঁরা সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
লালবাগ ও জিয়াগঞ্জ শহরের আমচাষিরা জানান, প্রথমদিকে বাগানের দু’একটি গাছে শোষক পোকা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তারপর এক সপ্তাহের মধ্যেই তা আরও অনেক গাছে ছড়িয়ে পড়ে। আমচাষি বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, এবছর দেরিতে গুটি এসেছে। বৃষ্টির পর থেকে শোষক পোকার উপদ্রব শুরু হয়েছে। দেরিতে মুকুল আসা গাছেই এই পোকার উপদ্রব বেশি। শোষক পোকা আমের গুটির বোঁটার রস খেয়ে পুষ্টি লাভ করে। ফলে বোঁটা শুকিয়ে ও কালো হয়ে গুটি ঝরে পড়ে। কয়েকদিন ধরে ব্যাপক হারে গুটি ঝরে পড়ছে।
লালবাগের আমচাষি আসগর আলি বলেন, প্রায় ১৫বছর ধরে বাগান লিজ নিয়ে চাষ করছি। গতবছর অফ ইয়ারে ফলন ভালো না হওয়ায় লোকসান হয়েছিল। এবছর গাছ মুকুলে ভরে ওঠায় ভালো ফলনের আশা করেছিলাম। কিন্তু শোষক পোকার আক্রমণে গুটি ঝরতে শুরু করায় দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। আমগাছে চলছে স্প্রে। নিজস্ব চিত্র