সংবাদদাতা, লালবাগ: মে মাসের শুরু থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন আমবাগানে শুলিপোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এই পোকার হানায় আম উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দিনে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থেকে রাতে আমে ডিম পাড়ে এই পোকা। ফলে এই নিশাচর পোকা মোকাবিলায় চাষিরা নাজেহাল হয়ে পড়েছেন।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দেখামাত্রই আক্রান্ত আমটি থোকা থেকে সরিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। এছাড়া, সংক্রমণ রুখতে ডাইক্লোরোফক্স বা ফেনথিয়ন নির্দিষ্ট পরিমাণ জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
তবে আম চাষিদের দাবি, পোকা ধরা আম চিহ্নিত করাই মুশকিল। চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় থোকা থেকে পৃথক করা যাচ্ছে না। ফলে পোকার হানায় আমের ক্ষতি হলেও চাষিদের তেমন কিছু করার থাকছে না।
শতাধিক প্রজাতির সুস্বাদু আমের জন্য নবাবি মুলুক মুর্শিদাবাদের দেশজোড়া খ্যাতি রয়েছে। জেলার প্রায় সমস্ত মহকুমায় আমের বাগান থাকলেও লালবাগ মহকুমায় আমবাগানের আধিক্য রয়েছে। চলতি বছর একটু দেরিতে হলেও লালবাগ তথা জেলার বিভিন্ন আমবাগান মুকুলে ভরে ওঠে। অন ইয়ারে বাগানের গাছে গাছে আমের মুকুলের সম্ভার দেখে প্রচুর ফলনের আশায় চাষিদের বুক আশায় উদ্বেল হয়ে উঠেছিল। এবছর আবহাওয়াও অনুকূল ছিল। কুয়াশামুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় আমের মুকুলের ক্ষতিকর শোষক পোকার সেরকম উপদ্রব ছিল না। কিন্তু গোল বেধেছে অপ্রত্যাশিতভাবে মে মাসের শুরু থেকে শুলিপোকার উপদ্রবে। যা নিয়ে চাষিদের ঘুম উবেছে।
লালবাগ ও জিয়াগঞ্জ শহরের বেশ কিছু আমচাষি বলেন, সাধারণত মার্চ মাসের প্রথম দিকে অর্থাৎ আম ডাম্বেল সাইজের হওয়ার পরই শুলিপোকার উপদ্রব দেখা দেয়। কিন্তু, এবছর মার্চ মাসে শুলিপোকার উপদ্রব দেখা যায়নি। ফলে চাষিরা মনে করেছিলেন, এযাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। কিন্তু, প্রথা ভেঙে এবার মে মাসের গোড়া থেকে শুলিপোকার উৎপাত শুরু হয়েছে।
আমচাষি বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, নিশাচর এই পোকা চাষিদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দিনেরবেলায় ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। সন্ধ্যা নামতেই ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়ে আসে। এরা আমের ভিতরে ডিম পাড়ে। নির্দিষ্ট সময় পর আমের ভিতরেই লার্ভার জন্ম হয়। এই লার্ভাই আমের আঁটি খেয়ে নেয়। এভাবে লার্ভা আমের থোকার সমস্ত আমই নষ্ট করে দেয়।
উদ্যানপালন দপ্তর শুলিপোকার লার্ভা দমনে আক্রান্ত আম নষ্ট করে ফেলা ও কীটনাশক স্প্রে করার বার্তা দিয়েছে। তবে চাষিরা জানান, কোন আমের পোকা ধরেছে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। সেজন্য আমচাষিরা এখনও এই পোকা দমনে তেমন সাফল্য পাচ্ছেন না। ফলে তাঁরা এই পোকার আক্রমণে আমচাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।