সংবাদদাতা, কাটোয়া : মিষ্টি প্রেমী বাঙালির কাছে রসগোল্লা, পান্তুয়া পরিচিত নাম। এমনকি, বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন জনপ্রিয় মিষ্টি পেয়েছে জিআই তকমাও। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের নিগনের মণ্ডা দীর্ঘবছর ধরে আলাদা একটি ব্রান্ড। কিন্তু জিআই তকমা থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা। শীতের মরশুমে নলেন গুড় দিয়ে তৈরি নিগনের মণ্ডা কিন্তু এখন পাড়ি দিচ্ছে বেঙ্গালুরু, গুজরাট, কেরল সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। তবে বহু পুরনো নিগনের মণ্ডা পরিচিতি পেলেও জিআই তকমা না পাওয়ায় মিষ্টি ব্যবসায়ী মহলে আফশোস রয়েছে।
মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, নিগনের মণ্ডা খুব বিখ্যাত। রাজ্যের বহু মানুষ এর স্বাদ নিয়েছেন। বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে এই মণ্ডা। আমরা নিগনের মণ্ডাকে জিআই তকমা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক মহলে দরবার করব। মণ্ডা বহু পুরানো একটি মিষ্টি। ছানার সঙ্গে চিনি, হাল্কা খোয়া ক্ষীর মিশিয়ে একটি তাল বানানো হয়। এরপর তা গোল্লা পাকিয়ে কাঠের পাটায় ফেলে চ্যাপটা আকৃতি আনা হয়। এমন দু’টি আকৃতি একসঙ্গে জোড়া লাগিয়ে দিলেই মণ্ডা তৈরি হয়ে যায়। এখন খেজুর গুড় মিশিয়ে গুড়ের মণ্ডাও তৈরি হচ্ছে। মণ্ডা তেমন ভাবে রাজ্যের কোথাও না পাওয়া গেলেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বেশ কয়েক জায়গায় পাওয়া যায়। কিন্তু মঙ্গলকোটের নিগনের মণ্ডা বহু বছর ধরেই বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। কাটোয়া-বর্ধমান রোডের উপরেই নিগন চটি বাসস্ট্যাণ্ডে সারি, সারি মিষ্টির দোকান। যেখানে মণ্ডা মূলত প্রধান মিষ্টি হিসাবে বিক্রি হয়। মঙ্গলকোটের সতীপীঠ ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা দর্শনে এলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিগনের মণ্ডা খেতে বেশ পছন্দ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিগনের মণ্ডা একটি ব্রান্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন কাটোয়া শহরের একটি দোকানেও নিগনের মণ্ডা বিক্রি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী রমেশ ঘোষ বলেন, আমাদের মণ্ডা বহু রাজ্যেই যাচ্ছে। আমাদের মণ্ডার মূল বিশেষত্ব হচ্ছে মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়। এমন স্বাদ অন্য কোথাও নিলবে না। কিন্তু একটাই খেদ, রসগোল্লা সহ বহু মিষ্টি জিআই তকমা পেলেও নিগনের মণ্ডার এই তকমা জোটেনি। নদীয়া জেলার এক ক্রেতা আশরাফুল শেখ বলেন, এখানকার মণ্ডা আলাদা মাত্রা এনে দেয়। নিগন এলে মণ্ডা নেব না এ হতে পারে না। -নিজস্ব চিত্র