Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোটে শোলাশিল্পকে ফ্যাশন জগতে ব্যবহার করতে প্রশিক্ষণ পড়ুয়াদের, কর্মশালা বনকাপাশিতে

মালয়েশিয়ার ফ্যাশন শোয়ের র‍্যাম্পে হেঁটেছিলেন কলকাতার বেহালার অষ্টাদশী তরুণী মৃন্ময়ী দে

মঙ্গলকোটে শোলাশিল্পকে ফ্যাশন জগতে ব্যবহার করতে প্রশিক্ষণ পড়ুয়াদের, কর্মশালা বনকাপাশিতে
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মালয়েশিয়ার ফ্যাশন শোয়ের র‍্যাম্পে হেঁটেছিলেন কলকাতার বেহালার অষ্টাদশী তরুণী মৃন্ময়ী দে। তিনি র‍্যাম্পে দেবী সরস্বতী রূপে ধরা দিয়েছিলেন। সেই রূপসজ্জায় তিনি শোলার তৈরি পোশাক পরে হেঁটেছিলেন। সেই পোশাক তৈরি করেছিলেন মঙ্গলকোটের বনকাপাশির রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শোলাশিল্পী আশিস মালাকার। ফ্যাশন শোতে বাংলার শোলার সাজের ব্যবহার দেখে চমকে উঠেছিলেন উপস্থিত দর্শকরা। 

Advertisement

এবার সেই শোলাশিল্পকে ফ্যাশন জগতে কাজে লাগাতে তৎপর ফ্যাশন শিল্পের পড়ুয়ারা। মঙ্গলকোটের বনকাপাশিতে দশদিনের কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন কলকাতার সল্টলেকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি কলেজের ১৮ জন পড়ুয়া। হরিয়ানা, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যের পড়ুয়ারা এসেছেন শোলার কাজ শিখতে। দক্ষ শিল্পীদের কাছে তাঁরা শিখছেন শোলার নানা খুঁটিনাটি কারুকাজ। শোলা কাটা, তাতে নকশা ফুটিয়ে তোলার তালিম নিচ্ছেন তাঁরা। শেখাচ্ছেন আশিস মালাকার। ফ্যাশন টেকনোলজি নিয়ে পড়াশুনা করা শুভম শাসমল, মুস্কান প্রিয়দর্শী, ঐন্দ্রিলা ক্যালিষ্কা যোশেফ, নিয়া সুনীল কুমার বলেন, যুগের সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচিও। বাংলা তথা মঙ্গলকোটের শোলাশিল্পের সুনাম ও ঐতিহ্যের কথা ছড়িয়েছে দেশ ও বিদেশে। আমাদের মনে হয়েছে শোলা দিয়ে ফ্যাশন জগতেও অনেক কাজ করা যায়। গয়না তৈরিতে এর সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শোলার কাজ শেখাটা খুব জরুরি। শোলা কাটা বা তাতে নকশা তোলার কাজ আমরা শিখছি। 
উল্লেখ্য, এখানকার গ্রামের শোলার কাজ দিয়ে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় প্রতিমা বা মণ্ডপ সাজানো হয়। শোলার তৈরি চাঁদমালা, চুমকি বা জরি বসিয়ে প্রতিমার সাজ হয়। শিল্পীরা পাড়ি দেন ভিন রাজ্যে, এমনকী বিদেশেও।  এখানকার গ্রামের পুরুষ, মহিলা উভয়েই একসঙ্গে শোলার নানা সাজ, নানা মডেল তৈরি করেন। তবে বনকাপাশির শিল্পীরা বেশির ভাগই মাটির প্রতিমার সাজ তৈরি করেন। বংশ পরম্পরায় এই সাজ তৈরির প্রতিযোগিতায় বর্তমানে বহু যুবক কাজ হারাচ্ছেন। তাই তাঁরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাইছেন। তাঁরাও চাইছেন শোলা শিল্পের বিবর্তন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি কলেজের অধ্যাপক ইয়াসান্ত কুমার বিশ্বকর্মা, ডঃ সাত্যকি রায় জানান, ফ্যাশন জগতে বাংলার শোলাশিল্পকে যাতে কাজে লাগানো যায়, তাই আমাদের পড়ুয়াদের হাতেকলমে শেখাতেই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। মাত্র দু’টি যন্ত্রের কেরামতিতেই শোলায় নকশা ফুটিয়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিল্পগুরু আশিস মালাকার বলেন, ফ্যাশন জগতে শোলাশিল্পকে যাতে যুক্ত করা যায়, সেসব বিষয়ে খুঁটিনাটি শেখাচ্ছি পড়ুয়াদের। ওঁরাও খুব আগ্রহের সঙ্গে শিখছেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ