Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোট: ক্যানসার কেড়েছে বাবাকে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দি সার্থক

দু’পায়ে লোহার শিকল। শিকলের চাপে পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে গিয়েছে ছেলেটার। কিন্তু তরতাজা ছেলেটার এমন পরিণতি হল কেন?

মঙ্গলকোট: ক্যানসার কেড়েছে বাবাকে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দি সার্থক
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া : দু’পায়ে লোহার শিকল। শিকলের চাপে পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে গিয়েছে ছেলেটার। কিন্তু তরতাজা ছেলেটার এমন পরিণতি হল কেন? মাস আ‌ড়াই আগে যে ছেলে হেসে খেলে বেড়াত। আজ শিকলবন্দি অবস্থায় সে যেন বিমর্ষ। আসলে বছর চৌত্রিশের সার্থক ক্যানসারে বাবার মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি। মানসিক ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়েছে। তাই তো ঘরের ছেলে যাতে কোথাও হারিয়ে না যায় তার জন্য পরিবার তাঁকে পায়ে শিকল বেঁধে রেখেছে। লাফিয়ে লাফিয়েই পাড়াময় চলে বেড়ায় সার্থক। এমন তরতাজা একটি ছেলেকে শিকলবন্দি অবস্থায় চলতে দেখে পড়শিরাও হতবাক। এমন মর্মান্তিক ঘটনা মঙ্গলকোটের বাউরো গ্রামের। 

Advertisement

সার্থকের বাবা সমীরবাবু মোটর ভ্যান চালাতেন। বড়দি রাখি মণ্ডলের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে কেতুগ্রামের শিবলুনে। বাবার মৃত্যুর পর বাড়িতে সার্থক তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকে। সমীরবাবু ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে আড়াই মাস আগে মারা যান।  বাবার মৃত্যুর পরেই সার্থক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বলে পরিবারের দাবি। চিকিৎসা করানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনও ফল হয় নি। অভাবের সংসারে এখন ছেলের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোটাই দুঃসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে মা লবানীদেবীর কাছে।  
সার্থকের দিদি রাখি মণ্ডল বলেন, ভাইয়ের এই সমস্যার সূত্রপাত অনেক আগেই। সার্থকের তখন চার বছর বয়স। সে সময় একবার টাইফয়েড হয়েছিল ওর। তাতেই ভাই কথা বলার শক্তি হারায়। কিন্তু ভাই তখন মানসিকভাবে সুস্থ ছিল। এরপর বাবা মারা যাওয়ার পর ভাই উন্মাদ হয়ে গিয়েছে। বাড়ি থেকে যেখানে সেখানে চলে যাচ্ছে। ভাইকে খুঁজে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। তাছাড়া ভাই গ্রামের অনেকের সঙ্গেই অভব্য আচরণ করে। তাই ওকে সব সময় লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। আমাদের ভিনরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা করানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ওই যুবকের এক আত্মীয় সনাতন ঘোষ বলেন, কীভাবে ছেলেটার চিকিৎসা হবে বুঝতে পারছি না। এর আগে ওকে বহরমপুর নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু তাতেও তেমন লাভ হয় নি। 
ছেলের এমন পরিস্থিতি দেখে চোখ মুছতে মুছতে মা লবানিদেবী বললেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যে ভাতা পাই, তা দিয়ে মা, ছেলের কোনওমতে  দু’বেলা অন্ন সংস্থান হয়। সেখানে কীভাবে ছেলেটাকে চিকিৎসা করাব ভেবে পাচ্ছি না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ