সংবাদদাতা, মানবাজার: ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ার মানবাজারকে মহকুমা ঘোষনা করেন। তারপরেই মানবাজার মহকুমা একের পর এক দপ্তরের কাজ শুরু হয়। কিন্তু মহকুমা ঘোষনার অনেক বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি মহকুমাস্তরের হাসপাতাল। এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা পুরানো সেই মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালেই। সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা ওই হাসপাতালকে ঘিরেই জমেছে ক্ষোভ। হাসপাতাল চত্বরে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তুপ। হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যবহৃত বর্জ্য দেখেই আতঙ্কিত হচ্ছেন স্থানীয় থেকে শুরু করে রোগীর পরিজনেরা। তাতেই ক্ষোভ জমেছে সকলের মনে। চিকিৎসা ব্যবহৃত বর্জ্য থেকে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। হাসপাতাল চত্বর জঞ্জালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা করাতে আসা সকলেই।
মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের চত্বরে পড়ে রয়েছে আবর্জনার স্তুপ। হাসপাতালের মূল গেটের ঢুকলেই বর্হি বিভাগের পাশেই জমে রয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবহৃত বর্জ্য। যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় থেকে শুরু করে রোগীর পরিজনদের। ওই আবর্জনার স্তূপ থেকে রোগ জীবাণু ছড়ার আশঙ্কা করছেন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা অনেকেই।
এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলির অবস্থা বেহাল। কোথাও পরীকাঠামোর অভাব তো কোথাও নেই চিকিৎসক। তাই কারো কিছু হলে ছুটতে হয় মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে। বর্তমানে প্রতিদিন হাসপাতালের বহির বিভাগে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। হাসপাতাল ভর্তিও থাকেন অনেকেই। মাসে ৩০ থেকে ৩৫ টি গর্ভবতী মহিলা তাদের সন্তান প্রসব করে ওই হাসপাতালে। সকলের দাবি হাসপাতাল ঠিকমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয় না। রোগীরা যেখানে ভর্তি থাকেন সেখানেও অনেক সময় আবর্জনা জমে থাকে। হাসপাতালের বর্হিবিভাগের সামনে জমে থাকে আবর্জনার স্তুপ। তার সামনেই ভিড় থাকলে অনেক সময় লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তখন অসুবিধা হয় বলে অভিযোগ। নীল লাল প্লাস্টিকে মুড়ে হাসপাতালে ব্যবহৃত বর্জ্য সেখানে ফেলা হয়। কিন্তু সেগুলো সাফাই করা হয়নি বলে অভিযোগ। জমে জমে স্তূপের আকার নিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ দুই সপ্তাহ আগে ওই আবর্জনার স্তুপে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছিল। তাতে স্থানীয় ও হাসপাতালে ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে তাদের পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে মানবাজার দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতলে আত্মীয়কে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসা বিভাস মন্ডল জানান, হাসপাতাল এলেই দেখি প্লাস্টিকে প্লাস্টিকে আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওইসব আবর্জনা দেখে আতঙ্কিত লাগে। হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখলে ভালো হয়।
এনিয়ে মানবাজারের বিএমওএইচ জিৎ সরকার বলেন, হাসপাতালে ব্যবহৃত বর্জ্য পরিষ্কার করার দীঘদিন ধরে কোনও এজেন্সি নেই। সেইজন্য সেগুলো হাসপাতাল চত্বরে জমে আছে। বিষয়টি স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও।