নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তিলপাড়া ব্যারেজের ক্ষতির জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্য সেচদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, জেলাশাসক সহ একাধিক আধিকারিকদের নিয়ে তিনি তিলপাড়া ব্যারেজ পরিদর্শন করেন। ব্যারেজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি জরুরি সংস্কারের তদারকিও করেন। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে ওই ব্যারেজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছিল। সে সময়েই ব্যারেজের একাংশে ফাটল নজরে এসেছিল। এরপর তড়িঘড়ি কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যারেজ সংস্কারের জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের কাছে বারংবার দরবার করেও অনুমতি মেলেনি। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, আমরা কেন্দ্রের অপেক্ষায় না থেকে অবশেষে দায়িত্ব নিয়ে ব্যারেজ সংস্কার শুরু করেছিলাম। জুলাই মাসেই সংস্কার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, বৃষ্টির জেরে কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ব্যারেজ সংস্কারের জন্য ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদের পরামর্শ নেওয়া হয়। সেই মোতাবেক কাজ চলছে। যদিও আবহাওয়া প্রতিকূল। তবে কাজ থেমে নেই। দ্রুতগতিতে আপৎকালীন সংস্কার করা হবে। তারপর বর্ষা শেষ হলেই ব্যারেজর পূর্ণ সংস্কার শুরু হবে।
এ বছর বর্ষার শুরুতেই ময়ূরাক্ষী নদীতে জলস্ফীতি হয়। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম থেকে অনবরত জল ছাড়ায় সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই তিলপাড়া ব্যারেজের একাধিক লক গেট খুলে দেওয়া হয়। তার জেরে নতুন করে ব্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ব্যারেজের ডাউন স্ট্রিমের বিভিন্ন অংশ থেকে বালি ও মাটি সরে যাওয়ার ফলে প্রথেমেই ডিভাইড ওয়ালে ফাটল ধরে। ক্রমেই সেই ফাটল চওড়া হচ্ছে। পাশাপাশি একাংশ নদীগর্ভে বসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, জলের তোড়ে ইতিমধ্যে একাধিক র্যাফটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নীচ থেকে বালি ও মাটি সরে যাওয়ার ফলে র্যাফটের একাংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনায় উদ্বিগ্ন সেচদপ্তর। শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জরুরি সংস্কারের কাজ। তবে নতুন করে আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় দপ্তরের আধিকারিকদের চিন্তা বাড়ছে। উদ্বিগ্ন দপ্তরের মন্ত্রীও। তাঁর কথায়, ২২ বছর আগের স্মৃতি মনে পড়ছে। আমি ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছি যাতে বৃষ্টি থেমে যায়।
সোমবার রাতে কলকাতা থেকে সিউড়ি এসে পৌঁছন সেচমন্ত্রী। সার্কিট হাউজে মধ্যরাত পর্যন্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সেরেছেন। এদিন ব্যারেজ পরিদর্শন করেন। প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যারেজের জরুরি সংস্কার শুরু হয়েছে। ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদের পরামর্শ মেনেই কাজ চলছে। সিউড়ির দিকে ব্যারেজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইতিমধ্যে একাধিক বোল্ডারের ব্লক বসানো হয়েছে। নতুন করে যাতে ব্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছে সেচদপ্তর। যদিও আবহাওয়ার ভ্রুকুটি দপ্তরের কর্তাদের চিন্তা বাড়িয়েই চলছে। এদিকে, এদিন বিকেলে জেলা কোর কমিটির আহবায়ক অনুব্রত মণ্ডলও যান তিলপাড়া ব্যারেজ পরিদর্শনে। তিনি বলেন, কাজ ভালোই চলছে, দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।