নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সাঁতরে কংসাবতী নদী পার হতে গিয়ে স্ত্রীর চোখের সামনেই ভেসে গেলেন বিনপুর-১ ব্লকের বলরামপুর গ্ৰামের বছর পঞ্চান্নর ক্ষুদিরাম পাতর। শুক্রবার সকাল দশটায় ঘটনাটি ঘটে। স্ত্রীর চিৎকার নিষেধ উপেক্ষা করেই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। মাঝনদীতে জলস্রোতে তিনি ভেসে যান। চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ডুবুরি নামিয়ে সন্ধান চালাচ্ছে।
নেপুরা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বলরামপুরে নদীর পাড়েই ক্ষুদিরামবাবুর বাড়ি। দুই সপ্তাহ আগে কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে বাড়ি ফেরার জন্য মদনচকের নদী পাড়ে আসেন। নদীতে ঝাঁপ দিতে উদ্যত হলে নদীর অপর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী মল্লিকা চিৎকার করে তাঁকে নদী পার হতে নিষেধ করেন। সেই নিষেধ উপেক্ষা করেই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। এরপরই মাঝ নদীতে জলস্রোতে ভেসে যান। মল্লিকা বলেন, দুই সপ্তাহ আগে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, শুক্রবার ফিরবেন। সকালে বাড়িতে ছিলেন। পাড়ার কয়েকজন ছোট ছেলে এসে জানায় আমার স্বামী সাঁতরে নদী পার হওয়ার জন্য অপর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ছুটে নদীর পাড়ে যাই। চিৎকারে করে বলি, নদীতে জল বেড়ে গিয়েছে। সাঁতরে এসো না। কথা শুনল না। চোখের সামনে মাঝ নদীতে ভেসে গেল। গতকাল থেকে খোঁজাখুঁজি চলছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলে মিঠুন বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। দুই সপ্তাহ আগেও নদীতে জল ছিল না। বাবা হেঁটে নদী পার হয়েছিল। সাঁতার জানত। আগে বহুবার নদী সাঁতরে পার হয়েছে। এখন বয়স হয়েছে, যারজন্য এমন একটা ঘটনা ঘটে গেল। নেপুরা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিতা পাতর বলেন, নদী এলাকার মানুষ সাঁতার জানেন। কিন্তু এত স্রোতে সাঁতরে নদী পার হওয়া বিপজ্জনক। স্ত্রীর নিষেধ শুনলে এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটত না। বিনপুর-১ ব্লকের বিডিও অনল সরকার বলেন সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা নদীতে সন্ধ্যান চালাচ্ছে। ডুবুরি নামানো হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।