নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি: ঘূর্ণিঝড় মন-থা নিয়ে সতর্ক উত্তরবঙ্গ। তিন সপ্তাহ আগের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ে ধস, সমতলে নদীতে জলস্ফীতির মোকাবিলায় প্রস্তুত প্রশাসন। বুধবার পাহাড়ের ধসপ্রবণ ও সমতলের নদী তীরবর্তী গ্রামে মাইকিং করা হয়। একইসঙ্গে রাত জাগছে মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তর। এজন্য তারা কন্ট্রোল রুমের কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তরকন্যার এক ডেপুটি সেক্রেটারি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মন-থা’র পরোক্ষ প্রভাব উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এর মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূর্ত, বিদ্যুৎ, সেচ, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি, স্বাস্থ্য, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্সের ওয়াটার উইংন্স টিমকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাহাড়ের ধসপ্রবণ এলাকায় আর্থমুভার, সমতলে সিভিল ডিফেন্সের রেসকিউ ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গম ও বিপজ্জনক এলাকাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি স্যাটেলাইট ফোন ও পুলিশের আরটি সেট রেডি রাখা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসারে বুধবার থেকেই ঘূর্ণিঝড় মন-থা’র পরোক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গে। বুধবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির আকাশ ছিল মেঘলা। দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। দুপুরে ঝিরঝিরে বৃষ্টিও হয়। সঙ্গে চলে মৃদু হাওয়া। যার ফলে সন্ধ্যার পর শীতের আমেজ উপভোগ করেন শহরবাসী। গৌড়বঙ্গের তিন জেলা মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার দাপট ছিল। আজ, বৃহস্পতিবার দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়, জলপাইগুড়ি, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কাল, শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মন-থা’র পরোক্ষ প্রভাব ও পশ্চিমীঝঞ্ঝার জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর রাতে উত্তরের পাহাড় ও সমতলের আছড়ে পড়েছিল প্রকৃতির রোষ। সেই বিপর্যয়ের ক্ষত মেরামত হতে না হতেই ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা। এমন প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ের ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয় এদিন। পূর্তদপ্তর ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ আর্থমুভার রেখেছে। ইতিমধ্যে ধসপ্রবণ কিছু এলাকা থেকে বাসিন্দারা নিরাপদস্থানে সরে গিয়েছেন। সমতলভাগে শিলিগুড়িতে মহানন্দা, বালাসন, মেচি, রক্তি বিভিন্ন নদীর বিপজ্জনক স্থান মেরামত করেছে সেচদপ্তর। এদিন তাদের কিউআরটি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় আছড়ে পড়লে কীভাবে তার মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। একইসঙ্গে পাহাড়ি নদী বেষ্টিত ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। বানারহাট, ধূপগুড়ির নদী তীরবর্তী গ্রামে মাইকিং করে প্রশাসন। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলাতেও নেওয়া হয়েছে একইরকম প্রস্তুতি।