নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর মাথায় শাবল দিয়ে মেরে থেঁতলে খুন করল স্বামী। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত স্ত্রী ও ছেলেকে বাড়িতে তালাবন্দি করে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে স্বামী। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে ধানতলা থানা এলাকার হুদা গ্রামে। মৃতের নাম মুসলিমা মণ্ডল(৩৪)। এদিকে, ঘটনার কথা জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্তের বাড়ি এবং দোকান ভাঙচুরের চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিস বাহিনী ও র্যাফ নামানো হয়।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার পাঁচপোতা গ্রামের বাসিন্দা মুসলিমার সঙ্গে বছর পনেরো আগে বিয়ে হয় নদীয়ার ধানতলা থানার হুদার বাসিন্দা শরিফুলের। বাড়িতে তাদের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১২ বছর। আর ছোট ছেলের বয়স চার বছর। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে মুসলিমার উপর অত্যাচার চালাত শরিফুল। মাঝেমধ্যেই বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিত সে। রবিবার দুপুরে অশান্তি চরমে ওঠে। তখন বাড়ির মূল দরজায় তালা দিয়ে স্ত্রীকে লোহার শাবল দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করে। সেইসময় তাদের বড় ছেলে চিৎকার শুনে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় মা মাটিতে পড়ে ছটফট করছে।
এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রী ও বড় ছেলেকে বাড়িতে তালাবন্ধ করে শরিফুল সাইকেল চালিয়ে সটান ধানতলা থানায় আত্মসমর্পণ করে। দম্পতির বড় ছেলে হাবিবুল মণ্ডল বলে, আমি বাথরুমে গিয়েছিলাম। চিৎকার শুনে বেরিয়ে দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় মা লুটিয়ে পড়ে রয়েছে। ততক্ষণে বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। আমি কোনওমতে চেঁচিয়ে আশপাশের বাড়ির লোকজনকে ডাকি। মাঝেমধ্যেই বাবা মাকে মারধর করত।
মৃতার দিদি আনোয়ারা মণ্ডল বলেন, বিয়ের পর থেকেই বোনকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত শরিফুল। নিজের ভাগের জমি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছিল বোন। আমরা শরিফুলের কঠোর শাস্তি চাই। এদিকে, মুসলিমার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাপের বাড়ির এলাকা থেকে বহু লোকজন এসে জমায়েত হয় শরিফুলের বাড়ির সামনে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও। অভিযুক্তের বাড়ি এবং দোকান ভাঙচুরের চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধানতলা থানার বিশাল পুলিসবাহিনী এবং র্যাফ নামানো হয়। পুলিসকে ঘিরে বহুক্ষণ করে বিক্ষোভ দেখানোয় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রানাঘাট জেলা পুলিসের ডিএসপি(সীমান্ত) সোমনাথ ঝাঁ। তাঁর মধ্যস্থতায় বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করতে সক্ষম হয় পুলিস। যদিও খুন এবং পারিপার্শ্বিক ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি পুলিসের কর্তারা। উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে।