Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাঁওতালডিহিতে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা স্বামীর

নতুন বাইক কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছিল যুবক। সেই টাকা দিতে না পারায় ঝামেলার জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে সে।

সাঁওতালডিহিতে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা স্বামীর
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নতুন বাইক কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছিল যুবক। সেই টাকা দিতে না পারায় ঝামেলার জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে সে। পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি থানা এলাকায় ২০২২সালের ১৬মে এই হাড়হিম করা খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত রতন মাজির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা হল। শনিবার জেলা ও দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক প্রিয়জিৎ চট্টোপাধ্যায় এই সাজা শোনান। সেইসঙ্গে অন্য দু’টি ধারায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে একবছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, ২০১২ সালে ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার দেবগ্রামের বাসিন্দা শম্পার সঙ্গে সাঁওতালডিহির কামারগোড়া গ্রামের রতনের বিয়ে হয়। রতন ভাড়ার গাড়ি চালাত। বিয়ের পর কয়েকবছর স্বামী-স্ত্রী ভালোভাবেই সংসার করত। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও হয়। কিন্তু, রতনের হঠাৎ বাইক কেনার ইচ্ছে জাগে। সে এজন্য স্ত্রীকে বাপেরবাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা আনতে চাপ দেয়। শম্পা সেই টাকা আনতে না পারায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা হতো। শম্পার আরও একটি কন্যাসন্তান হলে তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রায়দিনই রতন তাঁকে মারধর করত।
২০২২ সালের ১৬ মে সকালের দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়। সেই সময় দম্পতির বড় মেয়ের বয়স ছিল পাঁচ। ছোট মেয়ে ছিল দু’বছরের। রতন তাদের সামনেই বাড়িতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে। পরিবারের লোকজন ও পড়শিরা শম্পাকে গুরুতর জখম অবস্থায় চেলিয়ামার বাঁন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতার বাবা শান্তি মাজি থানায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস ওইদিন রাতেই রতনকে গ্রেপ্তার করে। পরেরদিন রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারপর থেকে সে আর ছাড়া পায়নি।
সরকারি আইনজীবী তপনকুমার মাজি বলেন, শুক্রবার রতনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সে ঘটনার পর থেকে জেলেই ছিল। এদিন তিনটি ধারায় সাজা শোনানো হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিসের তরফে তাড়াতাড়ি চার্জশিট দেওয়া হয়। ২০২৩সালের ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২৩জন সাক্ষ্য দেন। মৃতার বাপের বাড়ির তরফে এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ