Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেবরায় নাবালিকাকে ধর্ষণ, দোষী সাব্যস্ত প্রৌঢ়ের ২০ বছরের সাজা

ধর্ষণের ঘটনায় দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিল মেদিনীপুর আদালত।

ডেবরায় নাবালিকাকে ধর্ষণ, দোষী  সাব্যস্ত প্রৌঢ়ের ২০ বছরের সাজা
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ধর্ষণের ঘটনায় দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিল মেদিনীপুর আদালত। জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে এক প্রৌঢ়। শনিবার সেই প্রৌঢ়কে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও বিচারক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রৌঢ়ের নাম প্রফুল্ল আদক। তার বাড়ি ডেবরা থানা এলাকায়। অপরদিকে, এক যুবতীকে ধর্ষণের ঘটনায় এক যুবককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া বিচারক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম চিরঞ্জিৎ বিড়ুয়া। তার বাড়িও ডেবরা থানা এলাকায়। এই দুই ঘটনার সাজা ঘোষণা করেছেন বিচারক আশুতোষ সরকার। দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় খুশি দুই নির্যাতিতার পরিবার। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেবরার ঘটনাটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসের। এক নাবালিকা একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসক জানান, ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা। এরপর পরিবারের সদস্যরা নাবালিকাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাবালিকা জানায়, প্রফুল্ল তাকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এরপর পরিবারের তরফে ডেবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দ্রুত প্রফুল্লকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পকসো ধারায় শুরু হয় তদন্ত প্রক্রিয়া। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই পুলিস চার্জশিট দেয়। সেই সময় থেকেই জেলেই ছিল প্রফুল্ল। আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এদিন দোষী সাব্যস্ত করে তাকে সাজা দিল আদালত। 

Advertisement

অপরদিকে, দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২২ সালের জুন মাসের। ডেবরার এক যুবতীকে প্রতিবেশী সমীর বিড়ুয়া বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারে কিছু সময় থাকার সময় সমীর ওই যুবতীকে চিরঞ্জিতের বাইকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু চিরঞ্জিৎ যুবতীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বদলে একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। যুবতী বাড়ি ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সমীর ও চিরঞ্জিৎ উভয়কেই গ্রেপ্তার করে পুলিস। প্রথম দিকে পকসো ধারায় মামলা শুরু হলেও পরে জানা যায় ওই নির্যাতিতার বয়স ১৮ পেরিয়েছে। এই ঘটনাতেও ৬০ দিনের মাথায় পুলিস চার্জশিট দেয়। একইসঙ্গে আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এদিন চিরঞ্জিৎকে দোষী সাব্যস্ত ও সমীরকে বেকসুর খালাস করে আদালত। মেদিনীপুরে পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী বলেন, দু’টি ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি হল। নির্যাতিতা নাবালিকাকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ