Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জীবিত মাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ, লিলুয়ায় গ্রেফতার ছেলে

জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে বাবার পেনশনের যাবতীয় জমানো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘গুণধর’ ছেলের বিরুদ্ধে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে লিলুয়া থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ছেলে তপনকুমার দাসকে।

জীবিত মাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে  টাকা হাতানোর অভিযোগ, লিলুয়ায় গ্রেফতার ছেলে
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে বাবার পেনশনের যাবতীয় জমানো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘গুণধর’ ছেলের বিরুদ্ধে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে লিলুয়া থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ছেলে তপনকুমার দাসকে। তাকে এদিন হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। ছেলে গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ৭৮ বছর বয়সি মা বীণাপানি দাস। অভিযোগ, শুধু মৃত দেখানোই নয়, দিনের পর দিন তাঁকে মারধর ও অত্যাচার করত তপন।

Advertisement

বীণাপানি দেবী বলেন, ‘ছোট ছেলে আমাকে ঠেলে ফেলে দেওয়ায় পা ভেঙে গিয়েছে। আমাকে খুব মারধর করে। আমি চাই, ওর কঠোর শাস্তি হোক। আর আমার বন্ধ হয়ে যাওয়া পেনশন ফের চালু করা হোক।’ লিলুয়ার চকপাড়ায় একাই থাকেন বীণাপানি দেবী। অসুস্থ মায়ের দেখভাল করেন আয়া। তিনি জানান, বড় ছেলে তাপস দাস হায়দরাবাদে ডিফেন্সে চাকরি করেন। ছোট ছেলে তপন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি টাঁকশালে কর্মরত। অভিযোগ, ২০১৮ সালে স্বামী ক্ষীরোদচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর বীণাপানি দেবীর নামে পেনশন চালু হয়। কিন্তু ছোট ছেলে তপন ব্যাংকে জাল তথ্য দিয়ে মাকে ‘মৃত’ দেখানোয় তাঁর পেনশন বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা, যা ১৯৯৬ সালে ক্ষীরোদবাবুর অবসরের পর জমতে শুরু করেছিল, সবটাই সে নিজের নামে তুলে নেয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরে বীণাপানি দেবী লিলুয়া থানায় অভিযোগ জানান। মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশেই পুলিশ তদন্তে নামে। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় তপনকে। তবে আদালতে যাওয়ার সময় এদিন তপন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, ‘আমার দাদা চক্রান্ত করছে। আমিই মাকে দেখাশোনা করতাম। মাকে কোনওদিন মারিনি।’ মায়ের দাবি ও ছেলের অস্বীকার, দুই বিপরীত দাবি সামনে আসায় তদন্তে নেমেছে লিলুয়া থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পেনশনের টাকা তোলার নথি, জাল ডেথ সার্টিফিকেট এবং ব্যাংকের লেনদেন— সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ