নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকো গত ২৮ বছরের রেজিস্ট্রার্ড, রেকগনাইজড দল হওয়ার পরেও কেন প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে অস্থায়ী ভিন্ন প্রতীক দেওয়া হল? নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলা ‘চলতি সপ্তাহে শোনার চেষ্টা করব’ বলেই সোমবার জানিয়ে দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। যদিও গত শুক্রবার দায়ের করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটিকে ‘আন্ডার ডিফেক্ট লিস্টে’ পাঠিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তা শুধরে নেওয়ার সময়ও দেওয়া হয়েছে। ফলে ঠিক কবে হবে শুনানি সেটাই দেখার। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে কিছুটা হলেও স্বস্তি পয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। আপাতত তিনটি দলীয় অ্যাকাউন্টই ব্যবহার করতে পারবে তারা। এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছে। প্রতীক নিয়ে কমিশন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। উপনির্বাচনের জন্য তারা তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। তাই কমিশনের ওই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর তহবিল নিয়ে আপাতত আদালত আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরছে না। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তহবিল থেকে টাকা খরচের অধিকার মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে।
অন্যদিকে, এদিন সকালে প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করে বিষয়টি ‘উল্লেখ’ করেন মমতার আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি বলেন, তৃণমূল দলের প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে আগেই। প্রার্থীরা মনোনয়নও জমা দিয়ে দিয়েছেন। তারপর আচমকা দলের প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। দলের মালিকানা কাদের, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। তাই দ্রুত মামলার শুনানি করা হোক। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা চেষ্টা করবো এই সপ্তাহে শুনানি করার।
অন্যদিকে, আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির এজলাসে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সম্পর্কিত ১৩টি মামলার শুনানি। মূলত পশ্চিমবঙ্গে চলা ট্রাইবুনালের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা বিষয় নিয়েই হবে সওয়াল-জবাব। ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, অধীররঞ্জন চৌধুরী, প্রসেনজিৎ বসুদের মতো আবেদনকারীরা দায়ের করেছেন মামলা। ওইসব মামলায় নির্বাচন কমিশন ট্রাইবুনালে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি লক্ষ্যে আরও বেশি সংখ্যক ট্রাইবুনাল তৈরিতে শীর্ষ আদালতের অনুমোদন প্রার্থনা করবে বলেই জানা গিয়েছে। এখন রয়েছে ১৯টি ট্রাইবুনাল। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২ করতে চায় কমিশন। কারণ, কমিশনেরই দেওয়া সুপ্রিম কোর্টে তথ্য বলছে, ট্রাইবুনালে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯। তার মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪। অর্থাৎ এখনো ৯৬.৭১ শতাংশ আবেদনের নিষ্পত্তি বাকি!