নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: আজ, বুধবার মালদহের গাজোলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সভা। সভায় তিনি এসআইআর নিয়ে সরব হতে পারেন। দলনেত্রীর সভায় ভিড় উপচে পড়বে বলে প্রত্যাশা মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের। এসআইআর আবহে দলনেত্রী কী নির্দেশনা ও বার্তা দেন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নেতা-কর্মীরা।
মুখ্যমন্ত্রীর দলীয় সভার আগে মঙ্গলবার পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূল নেতৃত্ব। ইংলিশবাজারে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ রাজ্যের দুই মন্ত্রী তাজমুল হোসেন, সাবিনা ইয়াসমিন, দলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন ও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টায় গাজোল কলেজ মাঠের হেলিপ্যাডে নামবে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার থেকে নেমেই সোজা মঞ্চে উঠবেন তিনি। দলীয় সভা সেরে ফের তিনি উড়ে যাবেন মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে। মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগে ব্যানার, পোস্টার, কাট আউটে মুড়ে ফেলা হয়েছে গাজোল কলেজ মাঠ। কালিয়াচক থেকে শুরু করে চাঁচল, সর্বত্র মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সহ ব্যানার দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যেভাবে জনবিরোধী নীতি গ্রহণ করছে, সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য সভা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সর্বস্তরের তৃণমূল কর্মী সহ সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ জননেত্রীর বক্তব্য শোনার আগ্রহ প্রকাশ করছে। দিকে দিকে আওয়াজ উঠেছে গাজোল চলো। সভায় ৫০ হাজার মানুষের জমায়েতের যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা নিয়েছি তা ছাড়িয়ে যাবে। আমরা সব মানুষকে মাঠে জায়গা দিতে পারব কি না সেনিয়ে চিন্তায় আছি।
এসআইআর আবহে মুখ্যমন্ত্রীর দলীয় সভার জন্য গাজোলকে কেন বেছে নেওয়া হল। জেলা সভাপতি জানান, গাজোল মালদহ জেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে সব জায়গা থেকে খুব সহজেই মানুষ আসতে পারবে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজোল সিপিএমের গড় থেকে বিজেপির গড়ে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে মতুয়া, আদিবাসী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। সেই কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গাজোলকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
আব্দুর রহিম বক্সি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মালদহ জেলাজুড়ে আরও অনেকগুলি দলীয় সভা করবেন। প্রথম সভা হিসেবে তিনি গাজোলকে বেছে নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের মালদহ জেলা নেতৃত্ব সভাস্থল পরিদর্শন করে। তারা সভামঞ্চ ও হেলিপ্যাড ঘুরে দেখে। খতিয়ে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চ। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শন করেন মালদহের পুলিশ কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা, সভাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশের রাস্তা, মঞ্চের নিরাপত্তা, হেলিপ্যাড সবই তাঁরা খুটিয়ে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে গাজোল কলেজ মাঠ ও আশপাশের অঞ্চল কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও মেটাল ডিটেক্টর। • তৈরি হচ্ছে সভামঞ্চ। - নিজস্ব চিত্র।