নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলায় বিশ্ব আদিবাসী দিবসের প্রস্তুতি তুঙ্গে। অরণ্য শহরের ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামে ৭ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসের সূচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের দিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট ঝাড়গ্রামে পৌঁছবেন। বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় সেদিন শহরের রাস্তায় পদযাত্রা করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার সীমানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে সফর সফল করতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৬ আগস্ট জেলা সফরে আসছেন। ৭ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন। প্রশাসনিক স্তরের নানা কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফর ঘিরে পুলিস, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় দলনেত্রী এবার শহরে পদযাত্রা করবেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে জেলার বেশ কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী বৈঠক করতে পারেন। জেলার রাজনৈতিক মহলে যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ২০১৭ সালে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আদিবাসী অধ্যুষিত এই জেলা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ছাড়াও আদিবাসী সমাজের মানুষরা ৬ আগস্টের পদযাত্রায় শামিল হবেন। বিশ্ব আদিবাসী দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে শহর ও জেলার সীমানা এলাকায় নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম জেলায় মাওবাদীদের তৎপরতা বেড়েছে। জেলা পুলিসের তরফে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একাধিক প্রশাসনিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। জেলার প্রশাসন ভবনে যা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার কালেক্টরেট ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান চারদিন চলবে। অনুষ্ঠান মঞ্চে জেলার আদিবাসী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার আয়োজন করা হয়েছে। বিজেপি শাষিত রাজ্যগুলোতে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের হেনস্তার বিষয়ে আদিবাসী সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাঁওতালি, কুড়মি, মুন্ডা ও অন্যান্য ভাষার উপরও ভবিষ্যতে আক্রমণ নেমে আসতে পারে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে দলের তরফে বৈঠক করা হয়েছে। বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার পদযাত্রায় জেলার সকলস্তরের নেতাকর্মীরা শামিল হবেন। আমাদের দলনেত্রী চারদিন ব্যাপী বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রের আগ্ৰাসী ভাষা নীতি জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং আদিবাসী সমাজের মানুষের ভাষার আবেগকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। আগামীতে ভাষার লড়াইকে সামনে রেখে জেলাজুড়ে প্রচার কর্মসূচি চলবে। ঝাড়গ্রামের এসপি অরিজিৎ সিনহা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলার সীমানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।