নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ৩০ ডিসেম্বর বড়জোড়ায় দলীয় সভা করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতিতে সোমবার বড়জোড়ায় শাসকদলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যৌথ উদ্যোগে একটি বৈঠক করা হয়। এদিন বিকেলে বড়জোড়া উন্মেষ হলে আয়োজিত ওই বৈঠকে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়, দুই সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় ও সুব্রত দত্ত সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অরূপবাবু বলেন, বড়জোড়ায় তৃণমূলনেত্রীর সভায় বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যোগ দেবেন। আমরা এক লক্ষ জনসমাগম করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। দেজুড়ি সংলগ্ন এলাকায় বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কের পাশে সভাস্থলের জন্য জায়গা দেখা হয়েছে। অলোকবাবু বলেন, বাস এবং ছোট গাড়ি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার যানবাহনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুই সংগঠনিক জেলার ব্লক সভাপতি, পুর চেয়ারম্যান, বিধায়কদের কার্যত টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ অঞ্চল ও বুথ সভাপতিদের এব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়া জেলা সফর নিয়ে বেশকিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। জেলায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পাশাপাশি তাঁর জনসভা করার কথা ছিল। ফলে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল। তবে এই দফায় সরকারি কোনও কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়জোড়া ব্লক পশ্চিম বর্ধমান তথা দুর্গাপুর লাগোয়া। ব্যারেজের সেতু হয়ে সহজেই পড়শি জেলার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে পারবেন। তাছাড়া এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতে পশ্চিম বর্ধমান ও বড়জোড়া ব্লক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ বড়জোড়া ব্লকের অন্তর্গত মানাচরগুলিতে বহু উদ্বাস্তু পরিবার বাস করে। এসআইআর নিয়ে সেখানে বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানেও অনেকের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাছাড়া বড়জোড়া লাগোয়া শালতোড়া, সোনামুখী সহ অন্যান্য বিধানসভায় গত নির্বাচনে বিজেপি জয় পেয়েছিল। এবারও গেরুয়া শিবির মাথাচারা দিয়ে উঠছে। ফলে এসআইআর বিরোধী ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ওই এলাকায় তৃণমূল তাদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে চাইছে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো সেখানে সভা করলে সংগঠন অনেকটাই চাঙ্গা হবে বলে শাসক দলের নেতানেত্রীরা মনে করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সভা নিয়ে বড়জোড়া-মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও উদ্দীপনা চোখে পড়েছে।