সংবাদদাতা, বনগাঁ: ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় সামনে চলে এল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। বারাকপুর লোকসভার সাংসদ তথা দলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পার্থ ভৌমিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আক্রমণ শানালেন রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর। সোমবার গোবরডাঙা পুরসভার টাউন হলে তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্বভাবতই অস্বস্তি বেড়েছে শাসক শিবিরের।
টাউন হলের সভায় রাজ্যসভার সাংসদ তথা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান মমতা ঠাকুর বলেন, ‘পার্থ ভৌমিক ওখান থেকে চাবি ঘোরাবেন, আর এখানে মিটিং হবে। সেই মিটিংয়ে আমি থাকব না। পার্থ ভৌমিক দলের কোন দায়িত্বে আছেন, আমি জানি না।’ সভায় উপস্থিত দলীয় কর্মীদের একাংশ পার্থবাবুর এহেন সমালোচনার প্রতিবাদ করেন। সভা শেষে বাইরে আসতেই মমতাদেবীর উদ্দেশে দলীয় কর্মীদের একাংশ কটূক্তি করেন বলেও অভিযোগ। এই মর্মে গাইঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মতুয়া সঙ্ঘের এক সদস্য। এই ঘটনায় দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি দলে সাংগঠনিক রদবদল এনেছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে কোনও পরিবর্তন না হলেও চেয়ারম্যান পদে বদল হয়েছে। দলের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন মমতা ঠাকুর। সূত্রের খবর, এই রদবদলের পর বনগাঁয় একটি বৈঠক ডাকেন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। সেই সভায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা তৈরি হয়। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলেই পার্থ ভৌমিককে সমালোচনা করেন মমতাবালা। সূত্রের খবর, বিশ্বজিৎবাবুর ডাকা ওই বৈঠকে থাকতে না পারার বিষয়টি জানিয়ে তারিখ সরানোর কথা বলেছিলেন মমতাদেবী। তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল, ওই দিনেই বৈঠক করার কথা বলেছেন পার্থ ভৌমিক। সেই সূত্রেই মমতাদেবীর এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে খবর। যদিও এ বিষয়ে মমতাদেবী আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পার্থবাবু বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি কিছু বলব না। যা বলার, জেলা সভাপতি বলবেন।’ সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘কিছু কথা মমতা ঠাকুর বলেছেন, যা কর্মীদের একাংশের পছন্দ হয়নি। তার জন্য সভায় একটা বিশৃঙ্খলা হয়। তবে পার্থ ভৌমিকের সাথে বনগাঁর কর্মীদের নিবিড় সম্পর্ক।’