নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দেউচা পাচামি খনি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে খুব শীঘ্রই বীরভূমের আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসিনকভাবে অবশ্য এনিয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে, জেলা প্রশাসনের কর্তারা মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সম্ভাবনা দেখেছেন। তাঁদেরে কথায় সেই আভাস মিলেছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সফর ঘিরে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিও নজরে পড়ছে। বুধবার পিডিসিএলের সিএমডি পি বি সেলিমের উপস্থিতিতে খনি এলাকা পরিদর্শন করেন জেলাশাসক বিধান রায়। এছাড়াও জেলা পুলিস ও প্রশাসনের একাধিক কর্তাব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বীরভূম সফরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী খনি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রতিস্থাপিত মহুয়ার জঙ্গলও পরিদর্শন করতে পারেন। জেলাশাসক বলেন, আমার আশা করছি উনি আসবেন। দেউচা পাচামি তো স্বপ্ন নয়, বাস্তবের প্রকল্প। এলাকার মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে কয়লা খনি গড়ছেন। সুতরাং সেটা দেখতে অবশ্যই উনি আসবেন। এদিন আমরা সরেজমিনে প্রকল্প দেখতে এসেছি। আমরা একটা টিম হিসেবে কাজ করছি। এই টিমকে স্থানীয়রাই লিড করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই দেউচা পাচামিতে এশিয়ার বৃহত্তম কয়লা খনি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে চাঁদা মৌজায় প্রকল্পের কাজ অনেকটাই গতি পেয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সবুজ রক্ষায় মহুয়ার জঙ্গল পুরোপুরিভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭৫৫টি মহুয়া গাছ সহ মুর্গা, অর্জুন মিলিয়ে মিলিয়ে মোট ৯৮৪টি গাছ স্থানান্তরিত হয়েছে। স্থানান্তরণের পরও প্রতিটি গাছই বেঁচে আছে। জেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিতে মহুয়া সহ অন্যান্য গাছগুলিতে সবুজের সমাহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিন পরিদর্শনের সময়ে পিবি সেলিম, জেলাশাসক সহ অন্যান্য আধিকারিকরা প্রতিস্থাপিত গাছগুলিও ঘুরে দেখেন। সেইসঙ্গে খনি এলাকায় কাজ কীভাবে চলছে তাও তাঁরা দেখেন। এদিন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পি বি সেলিম ও বিধান রায়। জেলা প্রসাশনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে স্পষ্ট, অতি দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। সে ক্ষেত্রে কোথায় হেলিপ্যাড করা হতে পারে তা নিয়েও এদিন প্রশাসনিক কর্তারা একপ্রস্থ আলোচনা সেরেছেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রতিস্থাপিত গাছ সহ খনন কাজ পরিদর্শন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তাঁর জেলা সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়। কিন্তু প্রকল্প এলাকায় নজর ঘোরালেই জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতির ছবি নজরে পড়ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়েছিল খনন। ইতিমধ্যে কয়লার উপরিভাগে থাকা ব্যাসল্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে।



