নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে বিশ্ব আদিবাসী দিবস অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধামসা মাদলের সুরে আদিবাসী মহিলাদের নাচের তালে পা মিলিয়ে বেঁধে দেন উৎসবের সুর। মঞ্চ থেকে ৩৯২ কোটি টাকা প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৫৭ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কল্পতরু ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত জেলার বাসিন্দারা।
এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উন্নয়নে সেজে উঠেছে ঝাড়গ্রাম। সামনের দিনেও আরও উন্নয়ন হবে। প্রকল্প ঘোষণার পাশাপাশি, বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার আন্দোলনে জেলাবাসীকে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার ডাক দেন। আদিবাসী সমাজের অধিকার, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ের সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার লড়াই এদিন মিলেমিশে যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আবেগী কণ্ঠে বার বার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের কথা বলেছেন। একদা সন্ত্রাস ও দারিদ্র কবলিত ঝাড়গ্রাম জেলার পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরেছেন।
এদিন ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে ঢুকে প্রথমে সৃষ্টি স্টল ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। মূল মঞ্চের নীচে এসে নৃত্যরত আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে পা মেলান। মঞ্চে উঠে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, আম্বেদকর, সিধো, কানহো, বিরসা ও রঘুনাথ মুর্মুর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য দেন। শিক্ষাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, সবুজশ্রী, ভবিষ্যত ক্রেডিট কার্ড, শস্যবিমা সহ নানা প্রকল্পের চেক উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে রাজ্য ও জেলা প্রশাসনেরের আধিকারিকদের সঙ্গে মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসর পর জেলাজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এদিন মমতা সর্বমোট ২১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। প্রকল্পগুলো মধ্যে জেলার রাস্তাঘাট, কৃষির বিস্তার, গ্ৰামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অগ্ৰাধিকর দেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নে জেলার আটটি ব্লককেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলির মধ্যে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের ৯৯টি প্রকল্প রয়েছে। রাস্তা, চেক ড্যাম, পুকুর খনন, গভীর নলকূপ তৈরি, পাবলিক হেলথ ইউনিট, ব্লক ও গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা বৃদ্ধি, কমিউনিটি হল নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি রয়েছে। নয়াগ্ৰাম, সাঁকরাইল, গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের যাদবপুর, রাঙ্গামাটিয়া, ভোলা কদমডিহা, বিদ্যাপুর, ঝাড়িড়ায় ৬টি ক্ষুদ্র সৌর জল সেচ প্রকল্পের এদিন উদ্বোধন করা হয়েছে। এলাকার কৃষির বিস্তারে যা বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুখা এলাকা জামবনী ব্লকের কাদোপিন্দ্রায় বৃহৎ নদী উত্তোলন সেচ প্রকল্পের সংস্কার করা হবে। গোপীবল্লভপুর-২ , নয়াগ্ৰাম, বিনপুর-২ সাঁকরাইল ব্লকে দিঘিখিলার, ধুমসাই, পাথরবাঁধ, বালিচারিয়া, ভালুকখুলিয়া, বনকাটির মতো এলাকায় ৯টি পুকুর খনন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। বিনপুর, সাঁকরাইল, ঝাড়গ্রাম ব্লকের রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের ৬৬ প্রকল্পের শিলান্যাসের কথা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। বিনপুর-১ ব্লকের মাগুরা বাঘুয়াশোল, আঁধারজোড়া, কাঁকড়াদাঁড়া, ধরমপুর গোহালবেড়িয়ার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবনের শিলান্যাস করা হয়েছে।