Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতাই! কোচবিহারে প্রত্যয়ী ঘোষণা অভিষেকের

ফের রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার। চতুর্থবারের জন্য সে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—কোচবিহারের ঘুঘুমারির কদমতলার জনপ্লাবনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রত্যয়ী এ বার্তা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতাই! কোচবিহারে প্রত্যয়ী ঘোষণা অভিষেকের
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: ফের রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার। চতুর্থবারের জন্য সে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—কোচবিহারের ঘুঘুমারির কদমতলার জনপ্লাবনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রত্যয়ী এ বার্তা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবারের ওই ’রণ সংকল্প’ সভার মঞ্চ থেকে কোচবিহারবাসীর কাছে নিজের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন অভিষেক। বললেন, চতুর্থবারের জন্য সরকার গঠনে অন্যতম অবদান যেন কোচবিহারের হয়। যেন স্থাপিত হয় দৃষ্টান্ত। তা সুনিশ্চিত করতে হবে আপনাদেরই। করতালির সিংহগর্জনে সায় দিয়েছে সভাস্থল। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত চারদিক।    

Advertisement

বিজেপির ইন্ধনে এসআইআর পর্বে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার অভিযোগ বারবার করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক। সেই হেনস্তার উদাহরণ স্বরূপ এদিন মঞ্চে অভিষেক হাজির করিয়েছিলেন এমন ১০ জন জীবিত মানুষকে, যাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে কমিশনের খসড়া তালিকায়। এসআইআর পর্বে ভোটারই হোক বা বিএলও, আতঙ্ক আর কাজের চাপে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও মঞ্চে উপস্থাপিত করেন অভিষেক। ভূমিপুত্র রাজবংশীদের ভোট পেতে বীর চিলা রায়ের নামে প্যারা মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টার এবং নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গঠনের মতো বিস্তর প্রতিশ্রুতি বিগত নির্বাচন পর্বে বারবার বিলি করেছে বিজেপি। যার একটিও আজও পূরণ হয়নি। বিজেপির ঩প্রতিশ্রুতির ফানুস যে ফুটো হয়েছে, তা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। 
মঞ্চে উঠেই অভিষেক বলেন, আজকে যে উৎসাহ, যে উদ্দীপনা, যে উন্মাদনা আমার চোখে পড়েছে, কোচবিহার থেকে বিজেপিকে উপড়ে ফেলা শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে। আগামীর লড়াই এদের উপড়ে ফেলার লড়াই। বিসর্জন দেওয়ার লড়াই। জেলার যে ১০ জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে, সে প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, এঁরা সবাই কোচবিহার জেলার মানুষ। বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এঁদের কি মৃত বলে মনে হচ্ছে? এর জবাব দেবেন না? মানুষকে কোনও সম্মান দেয়নি। এঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে দিল্লির জমিদাররা। ওদের উপড়ে ফেলার সময় এসেছে।
উপস্থিত জনতার ‘মুড’ ততক্ষণে উপলব্ধিতে নিয়েছেন অভিষেক। দৃশ্যত ক্ষিপ্ত তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, এসব দেখে রক্ত গরম হয়! দিল্লি যাবে তৃণমূল। আজকে মাঠে যা লোক হয়েছে, দিল্লির নেতাদের বলব, সংবাদমাধ্যমে দেখবেন। রাতের ঘুম উড়ে যাবে। সীমান্ত এলাকায় কৃষকদের উপর বিএসএফের ‘অত্যাচার’ নিয়েও এদিন সরব হন তৃণমূলের সেনাপতি। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, গত ১২ বছরে আপনারা কি করেছেন? আর আমরাই বা কী করেছি, তা নিয়ে লড়াই হবে? আসুন, ১০ গোল দেব। বাংলার মানুষের সঙ্গে পাঙ্গা নেবেন না। যারা আমাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে, যারা উন্নয়ন বাদ দিয়ে ধর্ম নিয়ে কথা বলে, জানবেন, তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ