সংবাদদাতা, বোলপুর: আজ, মঙ্গলবার বোলপুরে শুরু তিনদিনের গীতাঞ্জলি উৎসব। শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের (এসএসডিএ) উদ্যোগে বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে উৎসবটি হবে। এই উপলক্ষ্যে গীতাঞ্জলি উৎসব কমিটির প্রথম ‘শান্তিনিকেতন সম্মান’ পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান এসএসডিএ চেয়ারম্যান চন্দ্রনাথ সিনহা। পাশাপাশি, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কেও দেওয়া হবে ‘গীতাঞ্জলি সম্মান’। তিনদিনের এই উৎসবে চাঁদের হাট বসবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই শহরে খুশির হওয়া।
বোলপুরের ঐতিহ্যবাহী গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সময় থেকেই দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ঘটা করে গীতাঞ্জলি উৎসব আয়োজন করা হতো। ওস্তাদ আমজাদ আলি খান, হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়াদের মতো বিশিষ্টরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উৎসবের গৌরব বাড়িয়েছেন। প্রতিবার এই উৎসব আয়োজন করা হলেও ‘শান্তিনিকেতন সম্মান’ ও ‘গীতাঞ্জলি সম্মান’ এই প্রথমবার দেওয়া হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। শান্তিনিকেতনের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অবদানের কথা মাথায় রেখে তাঁকেই প্রথম ‘শান্তিনিকেতন সম্মান’ দেওয়া হবে বলে এদিন জানিয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমবার ইউনেস্কোর হেরিটেজ কমিটি শান্তিনিকেতনে এসে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে রাজ্য সরকারের রাস্তা দেখে মনোনয়ন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রিং রোড তৈরি হলে স্বতন্ত্র হয় বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস। তারপরেই জোটে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা। এর পাশাপাশি জমি বিতর্কে আগাগোড়ায় তিনি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের পাশে ছিলেন। সেই অবদান মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রীকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে তিনি ইংল্যান্ডে থাকার কারণে তাঁর পরিবর্তে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সেই পুরস্কার গ্রহণ করবেন। এছাড়া উৎসবের শেষদিনে ‘গীতাঞ্জলি সম্মান’ দেওয়া হবে সঙ্গীত শিল্পী জিৎ গাঙ্গুলীকে। উৎসবের তিনদিন ধরে রূপঙ্কর বাগচী, শ্রীরাধা বন্দোপাধ্যায়, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। আগামীকাল, মঙ্গলবার এই মঞ্চ থেকেই বোলপুর পুরসভার দুর্গাপুজো কার্নিভালের পুরস্কার বিতরণ করা হবে। গীতাঞ্জলী উৎসবের সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।