Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বানভাসিদের ভাঙা বাড়ি নতুন করে গড়তে পৃথক প্রকল্প ঘোষণা মমতার

বর্ধমানে প্রশাসনিক সভা থেকে মঙ্গলবার ফের ডিভিসির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বানভাসিদের দিলেন অভয়বার্তা।

বানভাসিদের ভাঙা বাড়ি নতুন করে গড়তে পৃথক প্রকল্প ঘোষণা মমতার
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বর্ধমানে প্রশাসনিক সভা থেকে মঙ্গলবার ফের ডিভিসির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বানভাসিদের দিলেন অভয়বার্তা। জানিয়ে দিলেন, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আদলে আরও একটি পৃথক প্রকল্প আনবে রাজ্য। সেই প্রকল্পের আওতায় বন্যায় ভেঙে যাওয়া, ভেসে যাওয়া বাড়ি নতুন করে গড়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একাধিক জেলার বন্যাদুর্গত বহু মানুষ উপকৃত হবেন। 

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গের একাধকে জেলায় বন্যার জন্য ডিভিসিকে আগেও বহুবার কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যকে না জানিয়ে আচমকা প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়ার ফলেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। এদিন একই সুরে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ান তিনি। বলেন, ‘মাইথন, পাঞ্চেত জল ছাড়ছে। ডিভিসির জল জেলাগুলিকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। সব মাটির বাড়ি পাকা করে দেব। বর্ষায়, জলের স্রোতে, প্লাবনে যেসব বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, তার তালিকা পাঠিয়ে দিতে হবে মুখ্যসচিবকে। এখন ২৮ লক্ষ বাংলার বাড়ি হচ্ছে। তার বাইরে এদের নিয়ে পৃথক প্রোগাম হবে। পাড়ায় সমাধানেও তালিকা জমা হতে পারে। ডিএমের মাধ্যমে লিস্ট মুখ্যসচিবের কাছে যাবে। থানার আইসিরা তেমন বাড়ির সন্ধান পেলে এসপিকে জানান।’ 
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল নিয়েও কেন্দ্র বঞ্চনা করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জল প্রকল্পের টাকা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। সব পাইপ পড়ে রয়েছে। আমরা টাকা দিয়ে কাজ করাচ্ছি। গ্রামে ৭৬ শতাংশ ও শহরে ৭৮ শতাংশ বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, সেই ১৫ জুন থেকে ডিভিসি জল ছাড়া শুরু করেছে। এখনও তা অব্যাহত। এদিন দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেটরি কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সঞ্জীব কুমার বলেন, ‘মঙ্গলবার পাঞ্চেত থেকে ৪৩ হাজার কিউসেক হারে এবং মা‌ইথন থেকে ১২ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।’ অর্থাৎ, ডিভিসি’র দু’টি বাঁধ থেকে ৫৫ হাজার কিউসেক হারে জল ঢুকছে দুর্গাপুর ব্যারাজে। সেখান থেকে ৬১ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। যদিও সোমবারের তুলনায় (৬৮ হাজার ১৫০ কিউসেক) জল ছাড়ার হার এদিন কিছুটা কমেছে। দু’কূল ছাপিয়ে বইছে দামোদর ও অজয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মাটির বাড়ি ধসে এক নাবালক সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও কমবেশি একই পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন আশার আলো দেখছেন। এদিন মোট ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন হয় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে। শিলান্যাস হয়েছে প্রায় ৫১ কোটি টাকার প্রকল্পের।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ