Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা: সাধ্বী প্রজ্ঞা-সহ ৭ জনকে বেকসুর খালাস আদালতের

১৭ বছর ধরে চলা মামলায় রায় দিল এনআইএ আদালত। বৃহস্পতিবার মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরণ মামলায় সাধ্বী প্রজ্ঞা, প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত-সহ ৭ জনকেই বেকসুর খালাস করল আদালত।

মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা: সাধ্বী প্রজ্ঞা-সহ ৭ জনকে বেকসুর খালাস আদালতের
  • ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১২:০৭
Prefer us on Google

৩১ জুলাই, মুম্বই: ১৭ বছর ধরে চলা মামলায় রায় দিল এনআইএ আদালত। বৃহস্পতিবার মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরণ মামলায় সাধ্বী প্রজ্ঞা, প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত-সহ ৭ জনকেই বেকসুর খালাস করল আদালত।

Advertisement

এদিন আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র সন্দেহের বশে মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না। বিস্ফোরণের ঘটনাকে ভয়াবহ আখ্যা দিলেও, আদালতের বক্তব্য, “নৈতিকতার যুক্তিতে আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে না।” বিশেষ আদালতের বিচারক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হওয়া বাইকটি যে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরের তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। শুধুমাত্র সন্দেহ যথেষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে  ২৯ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে  নাসিক জেলার মালেগাঁওয়ের সংখ্যালঘু প্রধান ভিকু চক। মৃত্যু হয় ৬ জনের। আহত হন ১০১ জন।  বিস্ফোরণের এই ঘটনায় নাম জড়ায়  প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞার। অভিযুক্তদের তালিকায় নাম ছিল প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) রমেশ উপাদ্যায়, সুধাকর চতুর্বেদী, অজয় রাহিরকর ও সুধকর ধর দ্বিবেদীরও।

প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্তভার নেয় অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)।  ২০০৩ সালে প্রজ্ঞা, পুরোহিত সহ ১৬ জনের নামে চার্জশিট দায়ের হয়।  তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরণের জন্য একটি এলএমএল ফ্রিডম মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বদলে ফেলা হয়েছিল। ফরেন্সিক বিশ্লেষণে গাড়িটির প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন নম্বর মেলে। তদন্তকারীরা দাবি করেন, গাড়িটি গুজরাতের এবং প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের। ২০০৮ সালে ২৩ অক্টোবরে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। এটিএস আদালতে জানায়, পুরোহিত কাশ্মীর থেকে আরডিএক্স কিনে মহারাষ্ট্রে নিজের বাড়িতে সেগুলি লুকিয়ে রেখেছিলেন। দেওলালি আর্মি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বোমা তৈরি করেন সুধাকর। অন্য তিন অভিযুক্ত মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে রেখে এসেছিল। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি করতেই সংখ্যালঘু প্রধান ওই স্থানে গাড়িটি রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। 

২০১১ সালে মামলাটি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। এরপরই এটিএসের তদন্তের একাধিক বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তারা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় বেশ কিছু ধারা বাদ দেয় এনআইএ। ২০১৮ সাল থেকে সওয়াল-জবাব শুরু হয়। সবমিলিয়ে ৩২৩ জন সাক্ষীর তালিকা তৈরি হয়। যদিও এরমধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৯ জন হাজিরার দেননি। ২৮২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়। এদিন সেই মামলার রায়েই ৭ জনকে বেকসুর খালাস করল এনআই বিশেষ আদালত।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ