সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: জোড়া সঙ্গিনী পেয়ে বেশ চনমনে মাদা মেছো বিড়াল। সম্প্রতি হাওড়ার গড়চুমুক চিড়িয়াখানা থেকে দু’টি মাদি মেছো বিড়াল নিয়ে আসা হয়ও রসিকবিল মিনি জু ও পর্যটনকেন্দ্রে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে কয়েকদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর শনিবার একটিকে ছাড়া হয়েছে। এদিন ফিতা কেটে এনক্লোজারের উদ্বোধন করেন কোচবিহারের পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায়, এডিএফও বিজন কুমার নাথ সহ অন্য আধিকারিকরা। এদিন রসিকবিলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নতুন অতিথিদের দেখার সুযোগ মেলায় তাঁরা বেজায় খুশি। নতুন অতিথিদের আগমনে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে এই মিনি জু’তে।
বাম আমলে তৈরি তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের রসিকবিল মিনি জু উত্তরবঙ্গ তো বটেই, নিম্ন অসমের বাসিন্দাদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। ২১০০ হেক্টর জমি নিয়ে রসিকবিল প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। এখানে ময়ূর, অজগর, চিতাবাঘ, হরিণ, মেছো বিড়াল, ঘড়িয়াল এবং বেশকিছু প্রজাতির পাখি রয়েছে। বছর তিনেক আগে এখানে একটি পুরুষ মেছো বিড়াল নিয়ে আসা হয়। তার একাকীত্ব কাটাতে সঙ্গিনীর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন কোনও মাদি মেছো বিড়াল না থাকায় প্রজনন মরশুমে কিছুটা মনমরা হয়ে থাকত সে। এরপর বনদপ্তরের তৎপরতায় হাওড়ার গড়চুমুক জু থেকে একজোড়া মাদি মেছো বিড়াল রসিকবিল চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সবমিলিয়ে রসিকবিলে আসা পর্যটক থেকে বনকর্মী সকলের মধ্যেই নতুন অতিথিদের ঘিরে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
জেলা বনদপ্তরের আধিকারিক অসিতাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত তিন বছর শুধুমাত্র একটি মাদা মেছো বিড়াল এখানে ছিল। সব মিলিয়ে আপাতত তিনটি মেছো বিড়াল হল। একটি ছাড়া হয়েছে। আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হবে। আশা করছি, নতুন অতিথিদের ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে।
এব্যাপারে জেলার পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, ২০২৩ সালে রসিকবিলের মাদা মেছো বিড়ালটিকে আমরা দত্তক নিয়েছিলাম। তারপর থেকে একাকীত্বে কাটছিল তার। এরপর বিষয়টি বনদপ্তরের নজরে নিয়ে আসা হয়। নতুন সঙ্গিনী পেয়ে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে ওকে।