Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হরিয়ানা-উত্তরপ্রদেশে ফের আক্রান্ত বাঙালি শ্রমিক, রাজস্থান থেকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ মালদহের যুবককে, হাইকোর্টে বাবা

বাংলার মাটিতে প্রতিবাদ যত বাড়ছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বঙ্গভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের  উপর অত্যাচার ততই বাড়ছে। নতুন করে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে বঙ্গভাষীদের উপর নির্যাতনের খবর মিলেছে।

হরিয়ানা-উত্তরপ্রদেশে ফের আক্রান্ত বাঙালি শ্রমিক, রাজস্থান থেকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ মালদহের যুবককে, হাইকোর্টে বাবা
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, সংবাদদাতা, বনগাঁ ও শীতলকুচি: বাংলার মাটিতে প্রতিবাদ যত বাড়ছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বঙ্গভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের  উপর অত্যাচার ততই বাড়ছে। নতুন করে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে বঙ্গভাষীদের উপর নির্যাতনের খবর মিলেছে। ইতিমধ্যেই রাজস্থানে কর্মরত মালদহের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিককে বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সবমিলিয়ে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বঙ্গভাষী মাত্রই ‘বাংলাদেশি’, এহেন সন্দেহে নির্যাতন কিন্তু অব্যাহত।  

Advertisement

মালদহের কালিয়াচক থেকে রাজস্থানে কাজ করতে গিয়েছিলেন আমির শেখ। অভিযোগ, বাংলাদেশের নাগরিক সন্দেহে তাঁকে আটক করে সাতক্ষীরায় ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আমিরের বাবা জিয়েম শেখ। এর আগে ওড়িশার এক পারিযায়ী শ্রমিক নিখোঁজের মামলায় হাইকোর্টের  বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, ওই বিষয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ওড়িশা সরকারকে হলফনামা দিতে হবে। আগামী ২৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি। 
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পুলিসি নির্যাতনের শিকার হলেন শীতলকুচির এক শ্রমিক। আক্রান্ত শ্রমিক মমিন মিয়াঁর বাড়ি শীতলকুচি ব্লকের নগর লালবাজার গ্রামে। অভিযোগ, গত রবিবার গাজিয়াবাদে কাজে যাওয়ার পথে পুলিস তাঁদের গাড়ি আটকায়। জিজ্ঞাসা করা হয়, তাঁরা বাঙালি কি না! জবাব দেওয়া মাত্রই মমিনকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় পুলিস। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। থানার পরিবর্তে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে টাকা ও সমস্ত নথি কেড়ে নিয়ে মমিনকে রাস্তায় ছেড়ে চলে যায় পুলিস। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের লোকেরা তাঁকে উদ্ধার করে। বুধবার রাতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ফেরে মমিন। রাতেই তার বাড়িতে যান তৃণমূল শীতলকুচি ব্লক সভাপতি তপনকুমার গুহ সহ অন্যান্যরা। ওই রাতেই তাঁকে শীতলকুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানে ট্রমা কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মমিন। বৃহস্পতিবার তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। পদ্মপার্টির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন জানান, বিজেপি শাসিত রাজ্য বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে, এটা তৃণমূলের  মিথ্যাচার। যদিও মমিনের স্ত্রী লিপি বিবির কথায়, বাঙালি বলেই আমার স্বামীকে পুলিস তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে। 
অন্যদিকে, হরিয়ানায় কাজে যাওয়ার পথে বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে বনগাঁর গোপালনগরের এক বৃদ্ধ সাধন দাসকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল পুলিসের বিরুদ্ধে। প্রাণে বাঁচতে লুকিয়ে রক্তাক্ত বাবাকে নিয়ে গোপালনগরের বাড়িতে ফিরেছেন সাধনবাবুর ছেলে সৌভিক। গোপালনগরের দিঘারি পঞ্চায়েতের কনকপুর গ্রামের বাসিন্দা সাধন দাস। পরিবার নিয়েই হরিয়ানার গুরুগ্রামে থাকতে শুরু করেন। বাবা ও ছেলে একটি হোটেলে হাউস কিপিংয়ের কাজ করতেন। গুরুগ্রামে একটি বাঙালি পট্টিতেই ঘর ভাড়া নিয়ে তাঁরা থাকতেন। সৌভিক বলেন, আমাকে ধরতে পরপর তিনদিন এসেছিল পুলিস। স্ত্রীকে ঘরে রেখে, বাইরে থেকে তালা দিয়ে তিনদিন পালিয়ে বেড়িয়েছি। আক্রান্ত সাধনবাবু বলেন, কাজে যাওয়ার পথে আমাকে আটকায় পুলিস। ভারতীয় নাগরিকত্বের যাবতীয় নথি ছিল। তাসত্ত্বেও, বাংলায় কথা বলায় নির্যাতন করেছে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, আসলে বিজেপি বাঙালিদের সহ্য করতে পারে না। 

সম্পর্কিত সংবাদ